ক্রীড়া প্রতিবেদক
দুই বছরের ব্যবধানে কি বিস্তর ব্যবধান। ২০২৪ সালের অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবলের ফাইনালে ভারতের তিন টাইব্রেকার ঠেকিয়ে জয়ের নায়িকা বনে যান গোলরক্ষক ইয়ারজান বেগম। সেই কৃতিত্বে বাড়িও পেয়েছিলেন। অথচ এই ইয়ারজানই কাল হয়ে গেলেন খলনায়িকা। একে একে দুই ভুলে দুই গোল হজম। ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এভাবে গোল হজম করলে কি আর রক্ষা পাওয়া যায়। একে তো পুরো দলের বাজে পারফরম্যান্স। সেই সাথে পোস্টের নিচের ইয়ারজানের নড়বড়ে অবস্থান। ফলে ভারতের কাছে ০-৪ গোলে হেরে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফের শিরোপা খোয়াতে হলো বাংলাদেশ দলকে। আর প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ সাফে চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত। ২০২৪ সালে এই ভারতের সাথে ২২ শটের টাইব্রেকার শেষে এই আসরে যৌথ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সাইফুল বারী টিটুর দল। এবার পিটার জেমস বাটলারের দলকে রানার্সআপে সন্তুষ্ট থাকতে হলো। অবশ্য বাংলাদেশ দল চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও স্ট্রাইকার আলপি আক্তার সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছেন। সে সাথে হয়েছেন সেরা খেলোয়াড়। সাফ সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন ফাইনাল শেষে ট্রফি তুলে দেন।
লিগ পর্বে অপরাজিত। তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ১৮ বার বল পাঠানো। সেই দল ফাইনালে ৪ গোল হজম করবে তা রীতিমতো অবিশ্বাস্য। লিগ পর্বে ভারতের বিপক্ষে ২-০তে জিতেছিল বাংলাদেশ। সে ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছিলেন ইয়ারজান। স্বাভাবিকভাবেই গতকাল পোখারার রঙ্গশালায় অর্পিতা বিশ্বাসরাই ছিলেন ফেবারিট। কারণ তারা আগের ম্যাচগুলোতে কোনো গোলই হজম করেনি। নেপালের বিপক্ষে আগের ম্যাচে কোচ বাটলার মূল একাদশের ৯ ফুটবলারকে বিশ্রামও দিয়েছিলেন। তবে কাল টনিকই ব্যর্থ। প্রথম ম্যাচের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছে ভারত। তারা এই ম্যাচে আর রক্ষণভাগকে ফাঁকা থাকতে দেয়নি। মিডফিল্ডেও ছিল তাদের খেলোয়াড়দের দাপট। সে সাথে যোগ হয় লাল-সবুজ জার্সিধারীদের জঘন্য পারফরম্যান্স। মিডফিল্ডে মামণি চাকমা কিছুই করতে পারেননি। দুই উইং ব্যাক জয়নব বিবি রিতা এবং পুজা দাসও অনুজ্জ্বল। আগের তিন ম্যাচে ৭ গোল করা আলপি আক্তারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি কাল। অফ ফর্মের সৌরভী আকন্দ প্রীতি এই আসরে কোনা গোলই পেলেন না। কর্নার কিক গোলে সাইড নেট ও উপরের নেটে আশ্রয় নেয়। এরপর ৫১ মিনিটে স্ট্রাইকার তৃষ্ণা রানী যে ভাবে বিপক্ষ কিপারকে একা পেলেও বল বাইরে মারলেন তাতেই ম্যাচে ফেরার রাস্তা নষ্ট হয়ে যায় বাংলাদেশের। পিছিয়ে পড়ার পর কোচ খেলোয়াড় বদল করেও সুফল পাননি।
৪২ মিনিটে ডিফেন্সের ভুলে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশের। প্রীতিকার পাস থেকে ঝুলান লংমাইথাম এগিয়ে নেন ভারতকে। এরপর তৃষ্ণা এই মিস না করলে ভিন্ন হতে পারত ম্যাচের রেজাল্ট। ওই মিসের পর ইয়ারজানের দুই ভুল। ৬১ মিনিটে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসতে সময় নেন। এরপর বক্সে বিপক্ষ স্ট্রাইকারকে আটকাতে ব্যর্থ হয়ে তাকে টেনে ধরার চেষ্টা করেন। এতে তার সামান্য হাতের ছোঁয়ায় ভারতীয় ফুটবলারটি অভিনয় করে পড়ে আদায় করেন পেনাল্টি। ভুটানি রেফারির এই ভুলেই ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়ে বাটলার বাহিনী। গোলদাতা এলিজাবেথ লাকড়া। ৬৬ মিনিটে মুনকির ফ্রি-কিকে ছোট বক্সে থেকেও হেড নিতে পারেননি তৃষ্ণা। এই মিসের পরপরই ইয়ারজান বল ক্লিয়ার করতে দেরি করে শেষ পর্যন্ত ছুটে আসা ভারতীয় স্ট্রাইকারের গায়ে মারেন। সেই বল ধরে স্কোর ৩-০ করেন পার্ল ফার্নান্দেজ। ৮৩ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বাংলাদেশের জালে চতুর্থ বার বল ফেলেন আনউইতা রাঙ্গুরামান। ফলে বয়সভিত্তিক নারী সাফে এই প্রথম হালি গোলে হার সাবেক চ্যাম্পিয়নদের।


