ইরানের খেলোয়াড়রা মার্কিন ভিসা পেলেও কর্মকর্তারা পাননি

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে ভিসা ইস্যু নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। খেলোয়াড়দের জন্য শেষ মুহূর্তে মার্কিন ভিসা অনুমোদন দেয়া হলেও ইরানের জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা, টেকনিক্যাল উপদেষ্টা ও প্রশাসনিক স্টাফ এখনো ভিসা না পাওয়ায় কূটনৈতিক ও ক্রীড়া মহলে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল যখন মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত আবুল ফজল পাসান্দিদেহ জানান, প্রথম ম্যাচের মাত্র ১০ দিন আগে পর্যন্তও দলের খেলোয়াড়রা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি। তবে পরে মার্কিন প্রশাসন খেলোয়াড়দের ভিসা অনুমোদন করে। তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম বারাক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং ভিসা প্রক্রিয়ায় যুক্ত কর্মকর্তাদের প্রশংসা করেন। তবে সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি।

ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি, দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা এখনো ভিসা পাননি। তাদের মধ্যে রয়েছেন নির্বাহী পরিচালক মেহেদী খারাটি, ফেডারেশনের মহাসচিব হেদায়েত মমবিনি এবং মিডিয়া পরিচালক মোহসেন মোতামেদকিয়া। ইরানের অভিযোগ, বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে এমন আচরণ বৈষম্যমূলক এবং খেলাধুলার চেতনাবিরোধী।

ভিসা জটিলতার কারণে ইরান শেষ মুহূর্তে তাদের বিশ্বকাপ বেস ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর তিজুনা শহরে স্থানান্তর করেছে। দলটি সেখান থেকেই ম্যাচের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করবে। লস অ্যাঞ্জেলেসে ম্যাচ খেলতে সীমান্ত অতিক্রম করে যেতে হবে, যা প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সিয়াটলে ম্যাচের আগে দীর্ঘ ভ্রমণের বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে দুই দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা। চলমান সংঘাতের কারণে এবারের বিশ্বকাপকে অনেকেই কেবল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয় বরং একটি কূটনৈতিক পরীক্ষার মঞ্চ হিসেবেও দেখছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো আয়োজক দেশ এমন একটি দেশের দলকে স্বাগত জানাচ্ছে, যার সাথে তাদের সরাসরি সংঘাত চলছে।

বিতর্ক আরো বেড়েছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাম্প্রতিক মন্তব্যে। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের প্রতিনিধি দলে এমন কাউকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে না, যাদের সাথে আইআরজিসির সম্পর্ক রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার কারণে কিছু খেলোয়াড়ের অতীতে ওই বাহিনীর সাথে সম্পৃক্ততা থাকলেও সেটিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়।

সব বিতর্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও ইরান বিশ্বকাপে অংশ নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। গ্রুপ ‘জি’-তে তারা ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিযান শুরু করবে। এরপর প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম ও মিসর।

রাষ্ট্রদূত আবুল ফজলের মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। তার ভাষায়, ক্রীড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও ফুটবল মানুষকে কাছাকাছি আনার শক্তি রাখে। আর সে কারণেই রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে বিশ্বকাপে অংশ নেয়াকে ইরান শান্তি ও সংলাপের প্রতীক হিসেবে দেখছে।