রুশ বাহিনীর হয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ

দুই মাসের ব্যবধানে করিমগঞ্জের আরেক যুবকের মৃত্যু

Printed Edition

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

রুশ বাহিনীর হয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়ে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার এক যুবক নিহত হয়েছেন।

সম্মুখসারিতে যুদ্ধরত অবস্থায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন তার সহযোদ্ধা নরসিংদীর মৃদুল হোসেন। তিনি বর্তমানে রাশিয়ায় অবস্থান করছেন।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে ফেসবুক লাইভে এসে মৃদুল জানান, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হয়ে তিনিসহ বাংলাদেশের সাতজন গত ১৮ মে সম্মুখসারিতে যুদ্ধ করছিলেন। এ সময় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় তিনজন বাংলাদেশী নিহত হন।

করিমগঞ্জের যুবকের নাম মো: জাহাঙ্গীর হোসেন (২৪)। তিনি করিমগঞ্জ উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের কান্দাইল বাগপাড়া গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে।

নিহত অন্য দু’জনের একজনের বাড়ি মাদারীপুরে। তার নাম মো: সুরুজ কাজী। অপরজন ইউসুফ খান। তার বাড়ি কুমিল্লা জেলায়।

গতকাল বিকেলে করিমগঞ্জের বাগপাড়া গ্রামে গিয়ে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর হোসেনের বাবা হাবিবুর রহমানের মৃত্যুর পর মা জাকিয়া বেগম জীবিকার তাগিদে তিন সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় পাড়ি জমান। সেখানে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করে তিনি সন্তানদের মানুষ করেন। ঋণের টাকায় তিন মাস আগে রাশিয়ায় যান জাহাঙ্গীর। তার মৃত্যুর খবরে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় লোকজন ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর শান্তশিষ্ট স্বভাবের ছিলেন। পরিবারের আর্থিক সঙ্কট কাটাতে এক দালালের মাধ্যমে তিনি রাশিয়ায় যান।

জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই জাবেদ হোসেন জানান, মানুষের কাছ থেকে ধারদেনা ও ঋণ করে তার বড় ভাই কাজের ভিসায় রাশিয়ায় যান। সেখানে গিয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা জানতেন না।

জাবেদ বলেন, ‘রাশিয়ায় গিয়ে বড় ভাই তিন মাসেও বাড়িতে কোনো টাকা পাঠাননি। তিনি বলতেন, কাজের খোঁজে আছেন। কাজ পেলেই টাকা পাঠাবেন। কিন্তু তিনি যে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বেন, তা পরিবারের কেউ জানতাম না।’

জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর খবরে বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। তার আড়াই বছরের শিশু সন্তান আযান হোসেন, স্ত্রী মাসুদা হোসেন, মা জাকিয়া বেগম, ভাই জাবেদ হোসেন ও বোন জান্নাতুলের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ।

এর আগে জয়কা ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী নোয়াবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের মো: রিয়াদ রশিদ (২৮) রুশ বাহিনীর হয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়ে গত ২ এপ্রিল ড্রোন হামলায় নিহত হন। তার মৃত্যুর ঘটনাও এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।