এনামুল হক রাজাপুর (ঝালকাঠি)
ঝালকাঠির রাজাপুর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ১৮১টি পদের মধ্যে ১৯ জন ডাক্তার, ৭ জন দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মচারি, ৪২ জন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারি, ১৭ জন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারিসহ মোট ৮৬টি পদ শূণ্য রয়েছে। ফলে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ। এ সব পদ বিগত ১৫ বছর ধরে বিভিন্ন মেয়াদকাল পর্যন্ত শূণ্য রয়েছে।
জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও বাস্তবে সেবাদানের ক্ষেত্রে কোনো উন্নতি ঘটেনি। এখানে অপারেশন থিয়েটার স্থাপন করা হলেও কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়নি। প্রতিদিন এখানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে রোগীরা এসে চিকিৎসক না পেয়ে জেলা সদর হাসপাতালে চলে যান। এ ছাড়া অপারেশন থিয়েটারে স্থাপিত কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ডাক্তারের পরিবর্তে হাসপাতালের পিয়ন এবং ওয়ার্ড বয় যারা আছেন, তারাই বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। ডাক্তার না থাকায় ব্যান্ডেজ, সেলাইসহ ছোটখাটো অস্ত্রোপচার পিয়ন আর ওয়ার্ড বয়রাই করে থাকেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (ইএনটি, সার্জারি, কার্র্ডিওলজি, অফথালমলজি, চর্ম ও যৌন, অর্থোপেডিকস, মেডিসিন, শিশু, অ্যানেসথেসিয়া) একজন করে পদ শূণ্য রয়েছে। এ ছাড়া, সহকারী সার্জন/সমমান চারজন, সহকারী ডেন্টাল সার্জন একজন, সহকারী সার্জন (ইউনিয়ন পর্যায়) ছয়জনসহ মোট ১৯ জন ডাক্তারের পদ বহুদিন ধরে শূণ্য রয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদের মধ্যে নার্সিং সুপারভাইজার একজন, সিনিয়র স্টাফ নার্স ছয়জনসহ মোট সাতজনের পদও শূন্য রয়েছে বহুদিন ধরে।
তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর মধ্যে হেলথ এডুকেশন একজন, প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক একজন, কম্পিউটার অপারেটর একজন, ক্যাশিয়ার দুইজন, স্টোর কিপার দুইজন, স্যাকমো (উপজেলা) একজন, স্যাকমো (ইউনিয়ন পর্যায়) দুইজন এবং মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের পদ প্রায় ১০ বছর ধরে শূন্য থাকায় রোগীদেরকে স্থানীয় ক্লিনিক থেকে চড়ামূল্যে এক্স-রে করাতে হচ্ছে। অপরদিকে ব্যবহার না করায় নষ্ট হচ্ছে এক্স-রে মেশিনটি। মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ফিজিওথেরাপি) একজন, ফার্মাসিস্ট একজন, স্বাস্থ্য পরিদর্শক দুইজন, পরিসংখ্যানবিদ একজন, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ছয়জন, কার্ডিওগ্রাফার একজন, কম্পাউন্ডার একজন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর তিনজন, অফিস সহকারী কাম ডাটা এন্ট্রি অপারিটর একজন, স্বাস্থ্য সহকারী ১২ জন, সহকারী নার্স একজন ও ড্রাইভার একজনসহ মোট ৪২ জনের পদ শূন্য রয়েছে বহুদিন ধরে।
চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের মধ্যে অফিস সহায়ক ছয়জন, ওয়ার্ড বয় তিনজন, আয়া দুইজন, কুক দুইজন ও পরিছন্নতাকর্মী চারজনসহ মোট ১৭ জনের পদ শূণ্য রয়েছে বহুদিন ধরে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো: আবুল খায়ের মাহমুদ রাসেল বলেন, ‘বর্তমানে তিনজন ডাক্তার দিয়ে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। সপ্তাহখানেকের মধ্যেই ছয়/সাতজন ডাক্তার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যুক্ত হতে যাচ্ছে। তাহলে ডাক্তার সঙ্কট থাকবে না। অপর দিকে অন্যান্য ডাক্তার সঙ্কটসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা লিখিত ও মৌখিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।’


