নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, ঝালকাঠি জেলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে হবে। এ জন্য দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সাথে নিয়ে আমার একটা পরিকল্পনা আছে, সে অনুযায়ী কাজ করতে চাই।
বুধবার রাতে গুলশানের অফিসে ঝালকাঠি জেলা সাংবাদিক সমিতি, ঢাকার নেতাদের সাথে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
জিয়াউদ্দিন হায়দার আরো বলেন, ঝালকাঠির প্রতি আমি নাড়ির টান অনুভব করি সব সময়। সেই টান থেকেই মানুষের জন্য কাজ করতে বিশ্বব্যাংকের চাকরি ছেড়ে দেশে চলে এসেছি। যে মাটিতে জন্মেছি, বেড়ে উঠেছি, সেখানকার জন্য, মানুষের জন্য ভালো কিছু কাজ করতে চাই। এই চিন্তা থেকে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছি। আমি লক্ষ্যে অটল, কাজের ব্যাপারে আমি অত্যান্ত আশাবাদী।
তিনি বলেন, ঝালকাঠির শীতলপাটি, রূপান্তর গহনা, গামছার মতো ঐতিহ্যবাহী অনেক পণ্যের সুনাম রয়েছে। পেয়ারা, আমড়া, সুপারিসহ অনেক কৃষিপণ্য প্রশংসা কুড়িয়ে আসছে। এ ধরনের অনেক পণ্য এখন বিলুপ্তির পথে। এ ছাড়া বিসকি, মলিদা, তাল গড়গইড়্যাসহ অনেক সুস্বাদু ও মুখরোচক খাবারও এখন আর দেখা যাচ্ছে না। এসব পণ্য ও খাবার প্রক্রিয়াজাত করে, সময়োপযোগীভাবে বাজারজাতের ব্যবস্থা হলে এবং কাঁচামাল আধুনিক পদ্ধতিতে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হলে তা থেকে বহুমুখী পণ্য প্রস্তুত করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে রক্ষা পাবে জেলার ঐতিহ্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
ঝালকাঠির ইকোপার্ক নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী আরো বলেন, এখানকার প্রতিটি উপজেলার সংস্কৃতি নিয়ে আলাদা আলাদা কর্ণার করা হবে। সেখানে ইতিহাস-ঐতিহ্য, নানা উপকরণ ও জিনিসপত্র স্থান পাবে। সেখানে একজন মানুষ গেলে যাতে পুরো জেলার সম্পর্কে একটা পূর্ণ ধারণা পান। এভাবে বিভাগও করা গেলে সেটি একটি দারুণ ব্যাপার হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি জেলা সাংবাদিক সমিতি, ঢাকার সভাপতি শামীম হাওলাদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ সাদি, অর্থ সম্পাদক দৈনিক কালবেলার অনলাইন সিনিয়র রিপোর্টার শাহাবুদ্দিন মাহতাব, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা কামাল জাহিদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোরতুজা আমিন ডিলন, নির্বাহী সদস্য মো: মিজানুর রহমান (মাসুম মিজান), হুমায়ন কবির।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জিয়াউদ্দিন হায়দারের স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘ ও বিস্তৃত কাজের অভিজ্ঞতা থাকায় প্রধানমন্ত্রী বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডনে থাকাকালীন কৃষক কার্ডসহ স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন বিষয়ে তিনি পরিকল্পনা করেছেন, যা এখন আলোর মুখ দেখছে।



