কুড়িগ্রামে বাবা ছেলেসহ বিভিন্ন স্থানে নিহত ১৫

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

সড়ক দুর্ঘটনায় কুড়িগ্রামে বাবা-ছেলেসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৫ জন নিহত হয়েছেন।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে মাছবাহী একটি পিকআপ ভ্যানের সাথে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। শনিবার সকাল ৮টার দিকে রাজারহাট-তিস্তা মহাসড়কের কসাইটারী শিমুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর মাছবাহী পিকআপটি দ্রুত পালিয়ে যায়।

নিহতরা হলেন দুলু মিয়া (২৮) ও তার বাবা সিদ্দিক শেখ। তারা কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট সীমান্তবর্তী বোগমারী পঞ্চগ্রাম এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে বাবা-ছেলে রেললাইন পার হচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা রাজারহাটগামী একটি মাছবাহী পিকআপের সাথে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং তারা গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক দুলু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

অপর দিকে গুরুতর আহত সিদ্দিক শেখকে প্রথমে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান।

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দাঁড়িয়ে থাকা বাসের পেছনে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ঘটনাস্থলে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। তারা হলেন-জেলার বরুড়া উপজেলার মইশাই গ্রামের আবদুল্লাহর ছেলে কুমিল্লার রেলওয়ে স্টেশনে মোটরস অ্যান্ড ফার্নিচার ব্যবসায়ী সানাউল্লাহ (৩৩) এবং তার দোকানের কর্মচারী মুরাদনগর উপজেলার কোরবানপুর গ্রামের রবিউলের ছেলে অন্তর (২৬)।

শনিবার সকাল ৮টার দিকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ছুফুয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার ওসি রুহুল আমিন বলেন, সকালে দ্রুতগতিতে চলা একটি মোটরসাইকেল মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মদিনা পরিবহনের একটি বাসের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহী ঘটনাস্থলেই মারা যান। হাইওয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। একই সাথে দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল ও বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে যান।

তিনি আরো বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বাস ও পিকআপভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে লোকমান মিয়া (২৬) নামে পিকআপ চালক নিহত হয়েছেন। শনিবার ভোরে উপজেলার ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের সাতগাঁও চৌমুহনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত পিকআপভ্যান চালক লোকমান মিয়া শহরতলীর লালবাগ এলাকার শাহ আলমের ছেলে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, ময়মনসিংহ-সরিষাবাড়ি থেকে আসা শ্রীমঙ্গল হয়ে সিলেটগামী উদার পরিবহনের একটি বাসের সাথে বিপরীত দিকে যাওয়া একটি পিকআপভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে পিকআপভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাসেরও সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ সময় পিকআপ চালক গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পিকআপভ্যানের চালককে উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: নিশাত নওয়াব মুমু জানান, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে সয়াবিন তেলবাহী একটি কাভার্ডভ্যানের চাকা ফেটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে কাভার্ডভ্যান চালক বাবলু মিয়া (৫০) নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন হেলপার। স্থানীয়রা হেলপারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

গতকাল শনিবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের নয়াগাঁও এলাকায় মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বাবলু টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী থানার রামকৃষ্ণবাড়ী এলাকার মৃত সানোয়ার হোসেনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকাগামী মায়ের দোয়া ট্রান্সপোর্ট নামে একটি কাভার্ডভ্যান (ঢাকা মেট্রো-উ ১১-৪২৮০) গতকাল শনিবার সকালে মহাসড়কের নয়াগাও এলাকা অতিক্রম করছিল। এ সময় চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ কাভার্ডভ্যানটির চাকা ফেটে যায়। এতে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারালে সড়কের পাশে থাকা পল্লী বিদ্যুতের খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়। পরে কাভার্ডভ্যানটি উল্টে গেলে দু’টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় চালক বাবলু মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত হন তার সাথে থাকা হেলপার। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ হেলপারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বাসু বাজারে পিকআপ ভ্যান ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে শিমু আক্তার (৩২) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন।

শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের বাসু বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাসু বাজার এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানের সাথে একটি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে শিমু গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় সদর হাসপাতালে স্বজনের কান্নায় ভারী হয়ে উঠে পরিবেশ।

সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার শামীম আফজাল বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় শিমু আক্তার নামে একজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত শিমু আক্তার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের হাসন্দি গ্রামের খায়রুল ইসলামের মেয়ে এবং একই এলাকার কাঠমিস্ত্রি শরীফের স্ত্রী।

নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, নেত্রকোনায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেল উল্টে আলবার খান সামি (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে নেত্রকোনা শহর থেকে ৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে নির্মাণাধীন বাইপাস সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সামি শহরের চকপাড়া নিবাসী ইসলাম উদ্দিন খান চঞ্চলের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাতে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে গিয়ে বাইপাস সড়কে বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে তাল সামলাতে না পেরে সজোরে ব্রেক দেয়ার সাথে সাথে উল্টে সড়কের ওপর পড়ে মাথা থেঁতলে মগজ বেরিয়ে যায়। সঙ্গীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশার ধাক্কায় আবুল কাশেম লাতু (৮৪) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছে। ৫ জুন সন্ধ্যায় চন্দনাইশ গাছবাড়িয়া বরুমতি সেতুর পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বৃদ্ধ ওই এলাকার ভাইখলিফা পাড়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময়ে নিহত বৃদ্ধ সড়ক পার হচ্ছিলেন এ সময় দোহাজারীমুখী একটি অটোরিকশা তাকে সজোরে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চন্দনাইশ স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক ওই বৃদ্ধকে মৃত ঘোষণা করেন।

নোয়াখালী অফিস জানান, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বিয়ের চার দিন পর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সাইমুন ইসলাম ওরফে সাগর (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। একই দুর্ঘটনায় তার বন্ধু রিফাত গুরুতর আহত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সৌদি প্রবাসী বেলাল হোসেনের ছেলে নিহত সাগর। গত ২ জুন খালাতো বোনকে বিয়ে করেন সাগর। বিয়ের পর শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় বন্ধু রিফাতকে সাথে নিয়ে চরএলাহী বাজার থেকে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হন তিনি। পথে জহিরের খামার এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা একটি গাছের সাথে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে সাগর ও রিফাত দুজনই গুরুতর আহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সাগরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। চরএলাহী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মো: ইসমাইল হোসেন তোতা জানান, সাগরের বাবা-মা উভয়েই সৌদি আরব প্রবাসী। দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করা হলে সাগরের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু পথে তার মৃত্যু হয়। আহত রিফাত বর্তমানে নোয়াখালী মাইজদীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বরগুনা প্রতিনিধি জানান, বরগুনার আমতলীতে যাত্রীবাহী বাসের সাথে মোটরসাইকেল সংঘর্ষের দুজন নিহত হয়েছে। এতে মোটরসাইকেলের সজীব ও সাইফুল ইসলাম নামের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। তারা সম্পর্কে শ্যালক ও দুলাভাই। এ দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক আসাদুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। শুক্রবার রাতে আমতলী উপজেলার পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের শাখারিয়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে আমতলী থানার ওসি আবু সাহাদাৎ হাসনাইন পারভেজ বলেন, পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী শাখারিয়া নামক এলাকায় পৌঁছালে কুয়াকাটা থেকে ছেড়ে আসা সম্রাট পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাসের সাথে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার পর ঘাতক বাসের চালক ও হেলপার পালিয়েছে।

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায় বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দু’জন।

শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার রতনপুর কোল্ড স্টোরেজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিক নিহতদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে নিহত তিনজনই দিনমজুর বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের সদর দক্ষিণ উপজেলার রতনপুর কোল্ড স্টোরেজ এলাকায় উল্টোপথে আশা দিনমজুরদের বহনকারী একটি অটোরিকশাকে শাহআলী সুপার পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশা চালকসহ পাঁচজনের মধ্যে তিনজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত হন দু’জন। হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। আহত দু’জনকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দু’টি জব্দ করা হয়েছে।