ছয় নাগা যুবকের লাশ উদ্ধার

মনিপুরে নতুন উত্তেজনা

Printed Edition

টাইমস অব ইন্ডিয়া

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের এক যুগ পূর্তি উদযাপনের উৎসবমুখর পরিবেশ, ঠিক তখনই দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে ভয়াবহ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। অপহরণের প্রায় এক মাস পর ছয় নাগা যুবকের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো রাজ্য এখন উত্তাল। বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের জেরে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে।

গত বুধবার বিকেলে কাংপোকপি জেলার একটি দুর্গম এলাকা থেকে এই ছয় নাগা যুবকের লাশ উদ্ধার করে নিরাপত্তা বাহিনী। নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে। লাশ উদ্ধারের খবর প্রকাশ্যে আসতেই নাগা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেনাপতি ও উখরুল জেলাসহ একাধিক এলাকায় হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় বিভিন্ন স্থানে যানবাহনে আগুন দেয়া হয় এবং সরকারি স্থাপনা ও কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। রাজধানী ইম্ফলেও এই উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। জওহরলাল নেহরু চিকিৎসা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের বাইরে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এই বর্বরোচিত ঘটনার পেছনে ‘কুকি ন্যাশনাল আর্মি’ নামের একটি সশস্ত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। নাগা সংগঠনগুলোর দাবি, অপহৃত যুবকদের মুক্তির বিষয়ে মধ্যস্থতা ও আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত তাদের হত্যা করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে আরো উসকে দিয়েছে।

জানা গেছে, গত মে মাসে নাগা ও কুকি গোষ্ঠীর মধ্যে একাধিক অপহরণের ঘটনা ঘটেছিল। পরে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজনকে মুক্তি দেওয়া হলেও এই ছয় নাগা যুবককে আর ফিরিয়ে দেয়া হয়নি। তাদের উদ্ধারে নিরাপত্তা বাহিনী কয়েক দফা অভিযান চালালেও অবশেষে বুধবার তাদের লাশ মেলে। ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিলসহ বিভিন্ন সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেছে যে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই জাতিগত সঙ্ঘাত মোকাবেলায় রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।