নিজস্ব প্রতিবেদক
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে কর্মহীন হয়ে দেশে ফিরছে প্রবাসী শ্রমিকদের একটি অংশ। শুধু সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসকারী লাখ লাখ বাংলাদেশীর জীবন ও জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। যুদ্ধ চলতে থাকলে উপসাগরীয় শ্রমবাজারে ব্যাপক অনিশ্চয়তা দেখা দেবে বলে জানিয়েছে রেফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট-রামরু। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি : বাংলাদেশী অভিবাসী কর্মীদের ওপর প্রভাব ও করণীয় নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ শঙ্কার কথা জানিয়েছে রেফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু)।
লিখিত বক্তব্যে রামরু বলেছে, উপসাগরীয় অঞ্চল ও মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ লাখ প্রবাসী আছেন। যুদ্ধের কারণে এ পর্যন্ত অন্তত ৯ জন শ্রমিক মারা গেছেন। ইরান থেকে ২০০ কর্মীকে উদ্ধার করে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবারের মার্চে বিদেশ যেতে কর্মসংস্থান ছাড়পত্র কমেছে ৫০ শতাংশ। তার মানে কর্মী যাওয়া কমছে। নতুন শ্রমবাজার তৈরি করতে হবে এবং চাহিদামতো দক্ষ কর্মী গড়ে তুলতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পক্ষ নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতও এই যুদ্ধে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ায় ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার শিকার হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসকারী লাখ লাখ বাংলাদেশীর জীবন ও জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। চলাচলে ব্যাঘাত ঘটায় খোদ অভিবাসন কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যেই একটি দ্বিতীয় সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। কর্মী নিয়োগে বিলম্ব বা বাতিলের ক্ষেত্রে নিয়োগ খরচ পরিশোধ নিয়ে এজেন্ট এবং সম্ভাব্য অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিচ্ছে এবং এই সঙ্ঘাত অব্যাহত থাকলে এই প্রবণতা আরো তীব্র হতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও রামরুর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে প্রবাসী কর্মীদের সহায়তার জন্য সরকারের বাজেটে আলাদা একটি লাইন থাকা উচিত। এ ধরনের সঙ্কটে দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করতে একটি নির্দিষ্ট তহবিল বা বাজেট কাঠামো থাকা প্রয়োজন, যা রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত হবে। যুদ্ধ বা সঙ্কটকালীন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশে আটক বা সাজাপ্রাপ্ত প্রবাসীদের ক্ষেত্রে অতীতে দেখা গেছে অনেককে মুক্তি দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে কোভিড-১৯ মহামারীর সময় কারাগার থেকে অনেক বন্দীকে মুক্তি দিয়ে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ঘটনা উল্লেখ করেন তিনি।
তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী শ্রমিকদের একটি অংশ কর্মহীন হয়ে পড়েছে এবং দেশে ফেরত আসছে। আনুমানিক প্রায় ১০ হাজারের মতো শ্রমিক আটকে থাকার তথ্য উল্লেখ করা হলেও এটি চূড়ান্ত নয় এবং সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। কারণ অনেক দেশে এখনো নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকির কারণে শ্রমিক নিয়োগে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে।



