ভোটকেন্দ্র সংস্কারের ৩৭ লাখ টাকা নিয়ে প্রশ্ন, মুক্তাগাছায় ‘ক্যামেরা বাণিজ্যের’ অভিযোগ

Printed Edition

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম ময়মনসিংহ অফিস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ৪১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেয়া প্রায় ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায়। বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবন মেরামতের পরিবর্তে ওই অর্থের বড় একটি অংশ সিসি ক্যামেরা স্থাপনে ব্যয় করা হয়েছে বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দরজা-জানালা, ছাদ ও বৈদ্যুতিক লাইন মেরামতের জন্য ৪১টি বিদ্যালয়ে মোট ৩৬ লাখ ৮৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রায় ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ আসে।

সরেজমিনে আরফান আলী পৌর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষের দেয়াল থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে, ছাদের অবস্থাও ঝুঁকিপূর্ণ। অথচ বিদ্যালয়টির জন্য বরাদ্দ ছিল এক লাখ ৫০ হাজার টাকা। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই অর্থে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

একই চিত্র দেখা গেছে গাড়াইকুড়ি দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। বরাদ্দের পুরো টাকা উত্তোলন করা হলেও দৃশ্যমান সংস্কার কাজ হয়নি।

আরফান আলী পৌর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফাতেমা বেগম বলেন, বরাদ্দের টাকা দিয়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। কিছু পাইপের কাজও হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কবিতা নন্দী দাবি করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে মেরামতের টাকা দিয়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

তবে ইউএনও কৃষ্ণ চন্দ্র অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয় সংস্কারের দায়িত্ব শিক্ষা বিভাগের। সেখানে তাকে জড়ানো অযৌক্তিক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়গুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা থাকা সত্ত্বেও সংস্কারের পরিবর্তে অন্য খাতে অর্থ ব্যয় করায় শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা ঝুঁকিতেই রয়ে গেছে। একই সাথে সরকারি অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ ঘটনায় জেলা শিক্ষা অফিস তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হবে এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়া হবে।