সংসদ প্রতিবেদক
- জিসান ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি ঘিরে বিতর্ক
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে মনে হচ্ছে ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে : বিরোধীদলীয় উপনেতা
- মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্য ‘বর্ণবাদী আচরণ’ : বিরোধীদলীয় হুইপ
সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে ‘বিতর্কিত’ মন্তব্য এবং কুমিল্লায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে ঘিরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেয়া বিবৃতি নিয়ে জাতীয় সংসদে তুমুল হট্টগোল ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিরোধী ও সরকারি দলের সদস্যদের মধ্যে একাধিক দফায় বাগি¦তণ্ডার পর ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল রুলিং দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। একই সাথে মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশ সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার নির্দেশ দেন।
গতকাল রোববার বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। পূর্ব নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে উত্থাপন করে সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনার সূত্রপাত করার ঠিক আগে ৩০০ বিধিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের বিষয়টি তুলে ধরেন। জাতীয় সংসদে তিনি জানান, দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশ ইন্টারপোলের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ শুরু করে। এ লক্ষ্যে পুলিশ সদর দফতরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি), ঢাকা ইন্টারপোলের কাছে প্রয়োজনীয় আবেদন করে।
তিনি জানান, ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। রেড নোটিশের মাধ্যমে ইন্টারপোল সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে তাকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের অনুরোধ জানায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ এবং ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো এক ই-মেইলে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়েছে যে, বেনজীর আহমেদকে ইউএই পুলিশ গ্রেফতার করেছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে আটক রয়েছেন।
তিনি আরো জানান, ইউএইর ফেডারেল আইন অনুযায়ী গ্রেফতারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ (এক্সট্র্যাডিশন) আবেদন পাঠাতে হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার, ১৯৭৩-এর আওতায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি জানান, এনসিবি ঢাকা ইতোমধ্যে ইন্টারপোল চ্যানেলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সমন্বয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। একই সাথে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় মামলা, গ্রেফতারি পরোয়ানা ও তদন্ত-সংক্রান্ত নথিপত্র প্রস্তুত করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ প্রস্তাব প্রস্তুত ও অনুমোদনের কাজ সম্পন্ন করবে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক এক্সট্র্যাডিশন রিকুয়েস্ট পাঠানো হবে।
এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এনসিবি আবুধাবির সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদকে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটি বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। এর মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার পথে দেশ আরো একধাপ এগিয়ে যাবে। একই সাথে জাতিকে আমরা আশ্বস্ত করতে চাই যে, অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।’
তিনি আরো বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিমূলক বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।
তার এই বিবৃতির পরই তিনি কুমিল্লায় শিবির নেতা জিসান মিয়া প্রধানের নিখোঁজ হওয়া এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আরেকটি বিবৃতি দেন। এ সময় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধী দলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান অনুপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ১১ জুন কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলেও পুলিশি অনুসন্ধানে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্রে এক নারীর সাথে জিসানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে জিসান তাকে জোরপূর্বক ভ্রƒণ নষ্টের ওষুধ খাওয়ান বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আরো জানান, ১২ জুন বিয়ের দিন নির্ধারিত থাকলেও ১১ জুন রাতে বিয়ে এড়াতে জিসান আত্মগোপনে যান। পরে পুলিশ তাকে লাকসাম এলাকা থেকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদি হয়ে জিসানসহ চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রƒণ হত্যার অভিযোগে মামলা করেছেন এবং দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, জিসানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সরকারকে দায়ী করার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতেই সংসদে এ বিবৃতি দেয়া হয়েছে।
বিবৃতির পর বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা: সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ তাহের বক্তব্য দেয়ার চেষ্টা করলে ডেপুটি স্পিকার জানান, ৩০০ বিধিতে দেয়া বিবৃতির ওপর প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। পরে বিশেষ বিবেচনায় বক্তব্যের সুযোগ পেয়ে ডা: তাহের বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি অসংসদীয় এবং তা কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করা উচিত। তার অভিযোগ, একটি অনিষ্পন্ন ও বিতর্কিত বিষয় সংসদে এনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একটি দলকে হেয় করা হয়েছে।
তিনি আরো প্রশ্ন তোলেন, জিসান বর্তমানে কোথায় রয়েছেন এবং কুমিল্লা পুলিশ কেন জিসান বা অভিযোগকারী নারীর সাথে সাংবাদিকদের কথা বলতে দিচ্ছে না। তাহলে এটা কেন? তাহলে কি প্লট তৈরি (ক্ষেত্র) করা হচ্ছে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে তাই মনে হচ্ছে। প্রতিদিনই এরকম অনেক ঘটনা ঘটছে, কিন্তু, পার্লামেন্টে এটাই এসেছে। আমি এই বক্তব্যকে কনডেম করি। এটা প্রমাণিত হয়নি, তার ছবি আমাদের কাছে আছে। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফের বক্তব্য দেয়ার জন্য দাঁড়ান। এরপর সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাগি¦তণ্ডা ও হট্টগোল শুরু হয়। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সবাই দাঁড়িয়ে যান। তারা প্রতিবাদ করতে থাকেন। সরকারি দলের বেঞ্চ থেকেও অনেক এমপিকে কথা বলতে দেখা যায়। প্রায় ৮-১০ মিনিট এই ইস্যু নিয়ে অচলাবস্থা দেখা দেয়। চরম হট্টোগোল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার রুলিং দেন। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সংসদীয় রীতিনীতির পরিপন্থী কোনো বিষয় থাকলে তা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এরপরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য দেয়ার জন্য দাঁড়ালে তাকে আর মাইক না দিয়ে ডেপুটি স্পিকার থামিয়ে দেন। সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনার সূত্রপাত করেন।
পরে সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। বক্তব্যের শুরুতে তিনি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘ঐতিহাসিক, যুগান্তকারী, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ও গণমুখী’ আখ্যা দেন। এক পর্যায়ে তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ১৯৬৮ সালে গোলাম আযমের নেতৃত্বে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন এবং জামায়াতকে ক্যাডারভিত্তিক সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেন। এ মন্তব্য নিয়েও সংসদে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন তিনি ২০০৪ সালের একটি পারিবারিক দাওয়াতের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের স্ত্রী ও নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক ও পর্দা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। জামায়াতের পর্দানশীন নারী এমপিদের উদ্দেশ্যে একপর্যায়ে তিনি বলেন,‘...দু’জনের বক্তব্য শুনেছি, তারা মেধাবী। কিন্তু বুঝলাম না তো কারা আপনারা?’ বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা এ দিকে (সরকার দলীয় নারী এমপিদের) দেখলে বুঝতে পারেন, কিন্তু আমরা ওদিকে তাকালে কিছু বুঝতে পারি না। তার এই বক্তব্য ঘিরে বিরোধী দলের সদস্যরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। হট্টগোলের মধ্যে অধিবেশন কক্ষে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বেশ কিছুক্ষণ চলে এ অবস্থা। একপর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রুলিং দেন। তিনি বলেন, ‘এই মহান সংসদ ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে মন্তব্য করার জায়গা নয়। আমরা যদি নিজেদের শালীনতা ও মর্যাদা বজায় রাখতে না পারি, তবে দেশের মানুষের কাছে লজ্জিত হতে হবে।’
পরে তিনি মনিরুল হক চৌধুরীর ‘পার্সোনাল ফ্রিডম’-সংক্রান্ত বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার নির্দেশ দেন। সমালোচনার মুখে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, তার কোনো বক্তব্যে কারো আত্মসম্মানে আঘাত লেগে থাকলে তিনি তা প্রত্যাহার করছেন। পরে আসরের নামাজের বিরতির জন্য অধিবেশন ৩০ মিনিটের জন্য মুলতবি ঘোষণা করা হয়।
আসরের নামাজের বিরতির পর সংসদের অধিবেশন ফের শুরু হলে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যকে ‘অমার্জনীয় অপরাধ’ ও ‘বর্ণবাদী আচরণ’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, মনিরুল বিরোধীদলীয় উপনেতার স্ত্রীকে নিয়ে কটাক্ষ করেছেন এবং নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক নিয়ে মন্তব্য করে তাদের ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেছেন, যা সংসদীয় শালীনতা ও সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী।
জবাবে ডেপুটি স্পিকার জানান, বিতর্কিত অংশ ইতোমধ্যে এক্সপাঞ্জ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং সংসদে কেউ কারো ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে মন্তব্য করতে পারবেন না।
এ সময় পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের পক্ষে কথা বলতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার তাকে থামিয়ে দেন। তিনি বলেন, স্পিকারের আসন থেকে একবার কোনো বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার সিদ্ধান্ত হলে তা নিয়ে নতুন করে ব্যাখ্যা বা যৌক্তিকতা তুলে ধরার সুযোগ নেই। এরপর এ্যানিকে সময় দেয়া হয়। পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, এই সংসদে হাসি ঠাট্টার অনেক কথা হয়। এই কিছুদিন আগে মাননীয় জ¦ালানি মন্ত্রীকে নিয়ে বিয়ে শাদিও ব্যক্তিগত কথাবার্তা হয়েছে। হাসি ঠাট্টা থাকতেই পারে, এই রেওয়াজ আছে।
পরে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি ২৭৪ বিধির উল্লেখ করে বলেন, কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ হলে তার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকা উচিত। তিনি মনিরুল হক চৌধুরীকে বক্তব্য দিতে সুযোগ দেয়ার অনুরোধ জানান।
জবাবে ডেপুটি স্পিকার বলেন, যথাসময়ে প্রয়োজনীয় সুযোগ দেয়া হবে। একই সাথে তিনি সব সংসদ সদস্যকে বিতর্ক বন্ধ করে মূল বাজেট আলোচনায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।


