নিজস্ব প্রতিবেদক
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ এবং ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলা। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আজ রোববারের কার্যতালিকায় ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল শুনানির জন্য মামলা দু’টি তালিকাভুক্ত রয়েছে। গত ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন।
কার্যতালিকার প্রথম মামলাটি মাগুরার আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণসংক্রান্ত। মামলার বিবরণী অনুযায়ী, গত বছরের ৫ মার্চ মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদি হয়ে মামলা করলে পুলিশ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল অভিযোগপত্র দাখিল করে। মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান মাত্র ১৩ কার্যদিবসের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গত বছরের ১৭ মে মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান অভিযুক্ত হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং অপরাধে সম্পৃক্ততা প্রমাণিত না হওয়ায় অপর তিন আসামিকে খালাস দেয়া হয়।
কার্যতালিকার দ্বিতীয় আলোচিত মামলাটি ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা সংক্রান্ত। ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করার পর, সেই মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় ওই বছরের ৬ এপ্রিল নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়া হয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান। এ ঘটনায় তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।
সোনাগাজীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মাত্র ৬১ কার্যদিবসে ৮৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা, রুহুল আমিন ও মাকসুদ আলমসহ ১৬ জন অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। একই বছরের ২৯ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্সের নথি হাইকোর্টে পৌঁছায়। পরবর্তীতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করা হয় এবং প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় তা শুনানির জন্য বর্তমান বিশেষ বেঞ্চে উপস্থাপন করা হয়। ডেথ রেফারেন্সের পাশাপাশি কারাবন্দী আসামিদের জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিলও এই বেঞ্চে একসাথে শুনানি হবে।


