সংস্কারের অভাবে কঙ্কালসার ধানসিঁড়ি নদী পাড়ের সড়ক

Printed Edition

এনামুল হক রাজাপুর (ঝালকাঠি)

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ধানসিঁড়ি নদীর পূর্ব পাড়ের অবহেলিত এক জনপদের নাম পশ্চিম চর ইন্দ্রপাশা। এই গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই হতদরিদ্র। প্রায় দুই যুগ আগে নির্মিত ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ একমাত্র ইট সলিং রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে এখন সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সংস্কারের অভাবে রাস্তাজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায়ই ঘটছে দর্ঘটনা। বর্ষা ও বন্যার পানিতে রাস্তার বিভিন্ন অংশ তলিয়ে গিয়ে মাটি ধসে পড়েছে। বেশির ভাগ জায়গার ইট উঠে গিয়ে রাস্তার অস্তিত্বই বিলীন হয়েছে। বর্তমানে সড়কটির প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ স্থানই বেহাল। ভাঙা সড়কের সাথে যোগ হয়েছে ভাঙা সেতু ও কালভার্ট। ভূমিহীন এলাকার উত্তর প্রান্তের কালভার্টটি ভেঙে গুচ্ছগ্রাাম এলাকার ধানসিঁড়ি শাখা খালের ব্রিজের দুই পাশের মাটি ও ইট সরে যাওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অতি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণেই কালভার্টটি দ্রুত ভেঙে গেছে। বাগড়ি বাজারসংলগ্ন চর ইন্দ্র্রপাশা ব্রিজ থেকে উত্তর দিকে ভূমিহীন, গুচ্ছগ্রাম ও আশ্রায়ণ কেন্দ্র অভিমুখী এই রাস্তাটিতে অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, ভ্যানসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল কয়েক বছর ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মঠবাড়ী ইউনিয়নের অন্তর্গত এই চর ইন্দ্রপাশা গ্রামের বাসিন্দাদের হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, ব্যাংক, বীমা, পোস্ট অফিস, ইউনিয়ন পরিষদ, থানা এবং বিভিন্ন এনজিও অফিসে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এই সড়কটি। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী, অসুস্থ রোগী এবং শিশু শিক্ষার্থীরা। রাজাপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এনে সড়কটি সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।