- হত্যাকারী সন্দেহে গ্রেফতার এক মার্কিনি
- বৃষ্টিকে বিয়ের কথা ভাবছিলেন লিমন
যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশী দুই পিএইচডি শিক্ষার্থীর কেউই বেঁচে নেই। বাংলাদেশী দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি গত সপ্তাহ থেকে নিখোঁজ ছিলেন। শেরিফ অফিস জানায়, লিমনের লাশ শুক্রবার টেম্পা বে এলাকার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে উদ্ধার করা হয়। বৃষ্টিও বেঁচে নেই বলে জানিয়েছেন তার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমার বোন আর আমাদের মাঝে নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, লিমনের রুমমেট ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুগারবিয়েহকে শুক্রবার সকালে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে, সহিংসতার অভিযোগ পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ওই বাসায় যায় বলে জানান ডেপুটি চিফ জোসেফ মাওরার।
সংবাদমাধ্যমকে বৃষ্টির ভাই জাহিদ জানান, আজ (শনিবার) সকালে ফ্লোরিডা পুলিশ তাকে ফোন করে জানিয়েছে যে, তারা বৃষ্টির লাশ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। পুলিশ আমাদের জানিয়েছে, সন্দেহভাজনের অ্যাপার্টমেন্টে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা দু’জন মৃত ব্যক্তির।’ পুলিশ আরো জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি দু’জনের লাশই সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছিল।
তিনি বলেন, ‘পুলিশ এখনো বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। তারা শুধু পরিবারকে জানিয়েছে। তারা বলেছে, ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার চেষ্টা চলছে এবং আজ রাতেই (বাংলাদেশ সময় গতকাল) আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।’
হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের (পুলিশ) কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা থেকে নিখোঁজ বাংলাদেশী এক পিএইচডি শিক্ষার্থীর লাশ পাওয়া গেছে আর তার রুমমেটকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
লিমন ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পড়ছিলেন এবং বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, দু’জনের বয়সই ২৭ বছর এবং সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল তাদের দেখা গিয়েছিল।
শেরিফ অফিস জানায়, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সাবেক শিক্ষার্থী হিশাম আবুগারবিয়েহর বিরুদ্ধে মারধর, অবৈধভাবে আটকে রাখা, প্রমাণ নষ্ট করা, মৃত্যুর তথ্য গোপন রাখা এবং লাশ অবৈধভাবে সরানোর মতো অভিযোগ আনা হয়েছে।
ক্যাম্পাস পুলিশ ও সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ এপ্রিল এক পারিবারিক বন্ধুর মাধ্যমে তাদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানা যায়, এর আগের দিন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তাদের সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল।
মেডিক্যাল এক্সামিনার লিমনের মৃত্যুর কারণ চিহ্নিত করছেন এবং এ সপ্তাহান্তে ময়নাতদন্তের ফল প্রকাশ হতে পারে বলে জানিয়েছেন মাওরার।
গ্রেফতারের আগে হিশাম আবুগারবিয়েহকে অন্তত দুইবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। প্রথমে তিনি সহযোগিতা করলেও পরে বৃহস্পতিবার আর সাড়া দেননি। শুক্রবার তদন্তকারীরা লিমন হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত হন।
গ্রেফতারের সময় তিনি একটি বাড়ির ভেতর নিজেকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে সোয়াট টিম ও আলোচনাকারীরা ঘটনাস্থলে গেলে তিনি খালি গায়ে দুই হাত উঁচিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
এই ঘটনার সত্যতা ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস উইংও নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। মিয়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় তদন্তকারীদের সাথে সমন্বয় করছে এবং একজন প্রতিনিধি ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেছেন।
লিমনের লাশ উদ্ধারের আগে তার ভাই জোবায়ের আহমেদ সিএনএনকে বলেন, তাদের পরিবার ‘গভীর কষ্টে’ দিন কাটাচ্ছে।
এটা আমাদের জন্য বিধ্বংসী ঘটনা, বলেন তিনি। আমরা যেন অনুভূতিহীন হয়ে যাচ্ছি। কী হতে পারে, সবই সম্ভব মনে হচ্ছে।
বৃষ্টিকে বিয়ের কথা ভাবছিলেন লিমন
নাহিদা বৃষ্টিকে বিয়ে করার কথা ভাবছিলেন জামিল লিমন। তিনি বৃষ্টিকে বিয়ে করার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন বলে লিমনের পরিবারের সূত্রে জানা গেছে। লিমন বৃষ্টিকে ‘ভালো মেয়ে’ ও ‘প্রতিভাবান’ হিসেবেও বর্ণনা করতেন। লিমনের ভাই জুবায়ের জানান, লিমন বলত বৃষ্টি খুবই ভালো মেয়ে, তার অনেক প্রতিভা। গানের গলা যেমন ভালো , তেমন রান্নাও অনেক ভালো। জুবায়ের বলেন যে, তার ভাই খুব ভদ্র এবং সাধারণ একজন মানুষ ছিল। মুখে সবসময়ই হাসি লেগে থাকত।
গত দুই বছর ধরে লিমন দক্ষিণ ফ্লোরিডার জলাভূমি সঙ্কোচন পর্যবেক্ষণে জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের ওপর গবেষণা করছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল পিএইচডি শেষে বাংলাদেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া।



