ক্রীড়া ডেস্ক
কাতারের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফুটবলের ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে কাগজে-কলমে অনেক এগিয়ে ছিল সুইজারল্যান্ড। বড় মঞ্চে চাপ, হিসাব আর বাস্তবতা অনেক সময় ভিন্ন গল্প লিখে দেয়। তাই বাংলাদেশ সময় গত পরশু অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই-ই ছিল না, এটি ছিল নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করার অনেক বড় সুযোগ। কানাডা ও বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে গ্রুপে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচে ইতিবাচক ফল আনা ছিল প্রায় বাধ্যতামূলক। ফলে নকআউট পর্ব নিশ্চিতে তিন পয়েন্ট অর্জনই লক্ষ্য ছিল দুই দলের।
কাতারের বিপক্ষে এই লক্ষ্য নিয়েই পুরো ম্যাচে আক্রমণে দাপট দেখিয়ে খেলল সুইজারল্যান্ড। ম্যাচ জয়ের পথেই এগোচ্ছিল ইউরোপের দলটি। কিন্তু একেবারে শেষ মুহূর্তে চিত্র পাল্টে দিল মধ্য এশিয়ার দেশটি। ব্রিল এমবোলোর স্পট কিকে প্রথমার্ধে এগিয়ে যাওয়ার পর নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে অধিনায়ক বুয়ালাম খোখি গোলে সমতায় ফেরে কাতার। আগের আসরে স্বাগতিক হিসেবে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়ে তিন ম্যাচেই পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়া দলটি এবার দ্বিতীয় গোলের পাশাপাশি পেল প্রথম পয়েন্টও। তবে গোলরক্ষকের ভুলে প্রথমে গোল হজম করলেও এক পয়েন্ট পাওয়ার পেছনে বড় অবদান মাহমুদ আবুনাদার।
সান ফ্রান্সিসকোর বে এরিয়া স্টেডিয়ামে টানা ছয় ম্যাচে জয়হীন থেকে বিশ্বকাপে আসলেও ম্যাচে গোলের প্রথম সুযোগ কাতারই। সুইস রক্ষণের দুর্বলতায় বল পেয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন এডমিলসন জুনিয়র। সামনে একমাত্র বাধা গোলরক্ষক থাকলেও তার শটে জোর না থাকায় পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল। তবে পুরো ম্যাচে ৭০ শতাংশ বল পজিশনে রেখে গোলের জন্য নেয়া ২৭ শটের ১০টি লক্ষ্যে রেখে একবার জালের দেখা পায় দলটি। সেই গোলকে পুঁজি করে জয়ের দিকেই যাচ্ছিল সুইসরা। কিন্তু ৩০ শতাংশ বল পজিশনে রেখে ৫ শটের তিনটি লক্ষ্যে রেখে একবার গোল আদায় করে ইউরোপের দেশটির কাছ থেকে ১ পয়েন্ট ছিনিয়ে নিলো কাতার।
সুইজারল্যান্ড গোলের প্রথম সুযোগ সৃষ্টি করে ম্যাচের ৬ মিনিটে। সতীর্থের পাস বক্সে বল পেয়ে ড্যান এনদোয়ের নেয়া নিচু শট ঝাঁপিয়ে প্রতিহত করেন গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদা। সময়ের সাথে সাথে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও মুঠোয় নিতে থাকে সুইজারল্যান্ড। ১৩ মিনিটে এমবোলোর গোলে এগিয়ে যায় তারা। রেমো ফ্রয়লারকে কাতার গোলরক্ষক ফাউল করলে পেনাল্টি পায় রেফারি। ভিএআর চেকে সিদ্ধান্ত বহাল রাখলে ১৭ মিনিটে সফল স্পট কিকে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন কামেরুনে জন্ম নেয়া ২৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। সুইসদের হয়ে এ নিয়ে ২৫টি গোল হলো এমবোলোর। এরপর কাতার শিবিরে একের পর এক আক্রমণ চালালেও আসল কাজটি করতে পারছিল না সুইজারল্যান্ডের ফুটবলাররা।
সুইজারল্যান্ডের আক্রমণে দাপটের মাঝেই ৪৩ মিনিটে দ্বিতীয়বার গোলের সুযোগ পায় কাতার। এবারো এডমিলসনের কোনাকুনি শট পা দিয়ে ঠেকান সুইদের রক্ষা করেন গোলরক্ষক। প্রথমার্ধ শেষে যোগ করা সময়ে দু’টি ভালো সুযোগ ঠেকিয়ে সুইজারল্যান্ডকে হতাশ করেন গোলরক্ষক। ৫০ মিনিটে অধিনায়ক গ্রানিত জাকার দূরপাল্লার শট ক্রসবার ঘেঁষে বেরিয়ে গেলে এবারো গোলবঞ্চিত হতে হয় দলটিকে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে একটিই বলার মতো সুযোগ পায় কাতার। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে আহমেদ আলার সেই শট সহজেই ঠেকান কোবেল। সুইজারল্যান্ডের জয় যখন সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে আসে ওই মুহূর্ত। বাঁ দিক থেকে হোমাম আহমেদের ক্রসে ছয় গজ বক্সের বাইরে লাফিয়ে জোরাল হেডে বল জালে পাঠান খোখি। উল্লাসে ফেটে পড়ে গোটা কাতার শিবির।



