কান থেকে মুখ ফেরাল হলিউড

Printed Edition
কান থেকে মুখ ফেরাল হলিউড
কান থেকে মুখ ফেরাল হলিউড

আলমগীর কবির

কান চলচ্চিত্র উৎসবের লাল গালিচায় জমকালো পার্টি করার চেয়ে হলিউডের এখন অনেক জরুরি কাজ আছে। চলচ্চিত্র ব্যবসায় মন্দা চলায় এবার ডিজনি, ইউনিভার্সাল, অ্যামাজন এমজিএম, সোনি কিংবা প্যারামাউন্টের (যার সাথে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের জোট বাঁধার প্রক্রিয়া চলছে) মতো কোনো বড় স্টুডিওই কানে অংশ নেয়নি। আর সিনেমা হলে ছবি মুক্তি না দেয়ায় স্ট্রিমিং জায়ান্ট নেটফ্লিক্স তো আগে থেকেই এখানে নিষিদ্ধ।

কান উৎসব বরাবরই ক্ল্যাসিক ও বাণিজ্যিক সিনেমার এক দারুণ মিলনমেলা। পামে দর বা স্বর্ণপাম জয়ের লড়াইয়ে থাকে মূলত ইউরোপীয় ও মার্কিন স্বাধীন ধারার (ইনডি) সিনেমাগুলো। তবে উৎসবের জৌলুস বাড়াতে ও বিশ্ব গণমাধ্যমের নজর কাড়তে হলিউডের বড় স্টুডিওর সিনেমা আর তারকাদের উপস্থিতি থাকে অবধারিত। গত বছরও এখানে প্রিমিয়ার হয়েছিল ‘মিশন ইম্পসিবল : দ্য ফাইনাল রেকোনিং’ ছবির। সেবার লাল গালিচায় আলো ছড়িয়েছিলেন টম ক্রুজ ও অ্যাঞ্জেলা ব্যাসেট। আর ইরানি নির্মাতা জাফর পানাহির ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট’ জিতেছিল স্বর্ণপাম।

তবে এবারের চিত্রটা ভিন্ন। তারকাদের ঝলকানি কম, সাগরে ধনকুবেরদের বিলাসবহুল ইয়টের সংখ্যাও হাতে গোনা। পাপারাজ্জিদের ভিড় থাকলেও নেই সেই উন্মাদনা। ফলে ঐতিহ্যবাহী তারকাদের শূন্যস্থান পূরণে লাল গালিচায় দাপিয়ে বেড়িয়েছেন বাহারি পোশাকের ইনফ্লুয়েন্সাররা।

অনেকেই একে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে বিশ্ব রাজনীতি থেকে আমেরিকার মুখ ফিরিয়ে নেয়ার সংস্কৃতির অংশ হিসেবে দেখছেন। তবে কান উৎসবের শৈল্পিক পরিচালক থিয়েরি ফ্রেমো তীব্র ক্ষোভের সাথে এই ধারণা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমেরিকান সিনেমা এখানে আছে। মার্কিন স্বাধীন ধারার সিনেমাগুলো ঠিকই অংশ নিচ্ছে।’

অতীতে কান ছিল অস্কারের জোরালো প্রচারণামঞ্চ। ২০২৩ সালে অ্যাপল এনেছিল মার্টিন স্করসেসির ‘কিলারস অব দ্য ফ্লাওয়ার মুন’। গত বছরও এসেছে ওয়েস অ্যান্ডারসনের ‘দ্য ফিনিশিয়ান স্কিম’। কিন্তু মে মাসে অনুষ্ঠিত এই উৎসবের ইতিবাচক সাড়া অস্কারের মৌসুম (বছরের শেষ ভাগ) পর্যন্ত ধরে রাখা যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি নেতিবাচক রিভিউয়ের কারণে পুরো সিনেমার ব্যবসায়িক সম্ভাবনা মাটি হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।

অবশ্য ব্যতিক্রমও আছে। স্বাধীন ধারার মার্কিন ছবি ‘ক্লাব কিড’ ১৭ মিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে এ-২৪ স্টুডিও। অন্যদিকে, আরেক মার্কিন পরিবেশক ‘নিওন’ এবার জাপানি ও কোরিয়ান নির্মাতাদের ছবিসহ মোট ৯টি সিনেমা নিয়ে কানে বেশ সক্রিয়। ‘প্যারাসাইট’ বা ‘অ্যানোরা’র মতো অস্কারজয়ী ও স্বর্ণপামজয়ী ছবিগুলোর যাত্রাও শুরু হয়েছিল এই নিওনের হাত ধরেই। তবে ছোট ও স্বাধীন পরিবেশকদের ব্যবসায় এখন লাটে ওঠার জোগাড়। নেটফ্লিক্স বা অ্যামাজনের মতো বড় প্ল্যাটফর্মগুলো এখন আর আর্ট-হাউজ বা শিল্পমানের সিনেমা কিনতে আগ্রহী নয়। ফলে বিকল্প আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সিনেমা কেনার সাহস পাচ্ছে না ছোট পরিবেশকরা। এক পরিবেশকের ভাষায়, ‘রোম যখন পুড়ছে, আমরা তখন বাঁশি বাজাচ্ছি’। বড় স্টুডিওগুলোর ভাবনাও স্পষ্ট। ‘মাইকেল’ কিংবা ‘দ্য ডেভিল উইয়ার্স প্রাডা-২’ দিয়ে দর্শক যখন প্রেক্ষাগৃহে ফিরতে শুরু করেছে, তখন বক্স অফিসের সুদিন ফেরানোই তাদের মূল লক্ষ্য। তাই ফরাসি দেশে বিলাসবহুল পার্টি করার চেয়ে তাদের কাছে এখন সিনেমার বাণিজ্যিক সাফল্য ধরে রাখাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।