ক্রিস্টেন স্টয়ার্টের ‘ফুলফিল’ পেল ৫ মিনিটের স্ট্যান্ডিং ওভেশন

Printed Edition
ক্রিস্টেন স্টয়ার্টের ‘ফুলফিল’ পেল ৫ মিনিটের স্ট্যান্ডিং ওভেশন
ক্রিস্টেন স্টয়ার্টের ‘ফুলফিল’ পেল ৫ মিনিটের স্ট্যান্ডিং ওভেশন

আলমগীর কবির

কান চলচ্চিত্র উৎসবের মিডনাইট স্ক্রিনিংয়ে তারকা দ্যুতি ছড়ালেন ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট ও উডি হ্যারেলসন। ফরাসি সঙ্গীতশিল্পী ও নির্মাতা কুয়েন্টিন দুপিও-র অবাস্তব ও উদ্ভট ঘরানার বাবা-মেয়ের কমেডি সিনেমা ‘ফুলফিল’-এর প্রিমিয়ারে মুখরিত হয়ে উঠেছিল প্যালাইস থিয়েটার। তবে দর্শকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মাঝেই স্ক্রিনিং শেষে সিনেমাটি পাঁচ মিনিটের একটি প্রাণবন্ত স্ট্যান্ডিং ওভেশনে (করতালিতে) সিক্ত হয়। সিনেমাটি প্রদর্শনের আগেই নির্মাতা দুপিও এবং তার পুরো টিম প্রেক্ষাগৃহ ভর্তি দর্শকদের কাছ থেকে তুমুল করতালি কুড়ান। যার মধ্যে ছিলেন শার্লট লে বন ও এমা ম্যাকি (ফ্রান্সে যার আগের সিনেমা ‘এলা ম্যাককে’ ব্যাপক হিট হয়েছিল)। মাঝরাতের এই প্রদর্শনীতে উপস্থিত দর্শকরা তাদের প্রিয় তারকাদের রূপালি পর্দায় দেখার জন্য বেশ চাঙ্গা ও উন্মুখ ছিলেন। পরাবাস্তব এই কমেডিটি পুরো প্রদর্শনীজুড়ে দর্শকদের মাঝে হাসির রোল তৈরি করলেও, শেষ পর্যন্ত যেন কিছুটা ম্লান ঠেকেছে। সিনেমার ক্রেডিট রোল চালু হতেই দর্শকরা খানিকটা ভদ্রতার খাতিরেই তালি দিতে শুরু করেন। তবে হলের আলো জ্বলে ওঠার সাথে সাথেই পুরো প্রেক্ষাগৃহ দাঁড়িয়ে কাস্টদের উদ্দেশ্যে উল্লাস প্রকাশ করে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট। ভক্তদের ভালোবাসার জবাবে স্টুয়ার্টও ক্যামেরার দিকে মুখভঙ্গি করে রসিকতা করেন এবং ব্যালকনির দিকে হাত নাড়েন। স্ট্যান্ডিং ওভেশন দীর্ঘায়িত হতে থাকলে তিনি নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে কিছুটা নাচেন এবং চতুরতার সাথে উপস্থিত সবার মনোযোগ নিজের থেকে সরিয়ে তার সহঅভিনেতাদের দিকে ঘুরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। দর্শকদের এই উচ্ছ্বাসের মাঝেই মাইক্রোফোন হাতে নেন নির্মাতা কুয়েন্টিন দুপিও। উল্লাস থামিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি খুব সংক্ষেপে বলব, কারণ আমার ধারণা সবাই এখন চলে যেতে চাচ্ছেন। আপনারা যে এখনো কষ্ট করে বসে আছেন, তার জন্য অনেক ধন্যবাদ। এটা সত্যিই দারুণ, তবে বেশ রাত হয়ে গেছে।’

এই সংক্ষিপ্ত সময়ে তিনি তার পর্দার পেছনের কলাকুশলীদের সম্মান জানান। যার মধ্যে ছিলেন প্রযোজক হুগো সেলিগনাক, সঙ্গীতশিল্পী সিরিয়াসমো, তার স্ত্রী তথা শৈল্পিক নির্দেশক জোয়ান লে বোরু এবং সিনেমার অভিনয়শিল্পীরা। নিজের বক্তব্য শেষ করে আক্ষরিক অর্থেই হাতের মাইক্রোফোনটি মেঝেতে ফেলে (মাইক ড্রপ) দিয়ে দুপিও বলেন, ‘আমি শিল্পীদের সাথে বাঁচতে চাই এবং শিল্পীদের সাথেই কাজ করতে চাই। কান-কে অনেক ধন্যবাদ, অনেক অনেক ধন্যবাদ।’

‘ফুলফিল’ সিনেমার মূল গল্প আবর্তিত হয়েছে স্টুয়ার্ট ও হ্যারেলসনকে ঘিরে, যারা বাবা-মেয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। তাদের ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক জোড়া লাগানোর উদ্দেশ্যে তারা প্যারিস ভ্রমণে আসেন। কিন্তু ১৯৫০ এর দশকের একটি হরর সিনেমা এবং হোটেলের এক কৌতূহলী কর্মচারীর কারণে তাদের সেই উদ্দেশ্য নানা নাটকীয়তার মুখে পড়ে। স্টুয়ার্ট, হ্যারেলসন ও ম্যাকির পাশাপাশি এই সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন শার্লট লে বন, টিম হাইডেকার এবং এরিক ওয়ারহেইম।

নির্মাতা দুপিও এর আগে ২০২৪ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী সিনেমা ‘দ্য সেকেন্ড অ্যাক্ট’ নিয়ে ক্রজেটে হাজির হয়েছিলেন। অন্যদিকে, ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট গত বছর তার পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘দ্য ক্রোনোলজি অব ওয়াটার’ নিয়ে কানে এসেছিলেন। একজন সাঁতারুর মাদকাসক্তি কাটিয়ে ওঠার গল্প নিয়ে নির্মিত সেই সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন ইমোজেন পুটস, যা সমালোচকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। হলিউডভিত্তিক বিনোদন মাধ্যম ‘ভ্যারাইটি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টুয়ার্ট জানান, দুপিও-র নিজস্ব ঘরানার বা ‘ডিআইওয়াই’ নির্মাণ পদ্ধতির কারণে তিনি তার সাথে কাজ করার জন্য মুখিয়ে ছিলেন। স্টুয়ার্ট বলেন, ‘আমি ওর সিনেমা দারুণ পছন্দ করি। ওর কাজ অন্য সবার চেয়ে একেবারেই আলাদা। অভিনেতারা ওর মতো একজন নির্মাতাকে অনুসরণ করার সুযোগ পেলে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করেন। তিনি নিজেই সবসময় ক্যামেরা সামলান। ফলে অভিনেতারা ওর সাথে পুরোপুরি একাত্ম হতে পারেন। দিনশেষে কীভাবে দৃশ্যটি সম্পাদনা করা হবে, তা তিনি আগে থেকেই জানেন। কোনো শট বাদ পড়লে তিনি সাথে সাথেই তা নিয়ে নেন। তিনি কেবল একজন জাত নির্মাতাই নন, বরং একজন মাস্টারমাইন্ড।’