বিশেষ সংবাদদাতা চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে দীর্ঘদিন ধরে দস্যুতা শূন্যের কোটায় থাকলেও হঠাৎ করে বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজে জলদস্যুতার অভিযোগ উঠছে। গত এক মাসের ব্যবধানে বহির্নোঙরে তিনটি বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজে জলদস্যুতার ঘটনায় কয়েক কোটি টাকার মালামাল, জাহাজের সরঞ্জাম ও মূল্যবান যন্ত্রাংশ লুট হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে বিদেশী জাহাজের মালিক, শিপিং এজেন্ট এবং নাবিকদের মধ্যে যেমনি গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি বাংলাদেশের বন্দর নিরাপত্তাও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জলদস্যুতা প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা জোরদারে নৌমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার।
নৌপরিবহন মন্ত্রীকে জরুরি পত্র :
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরের জাহাজে জলদস্যুতা প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা জোরদারে নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে গতকাল বুধবার এক জরুরি পত্র দিয়েছেন চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক। চেম্বার সভাপতি পত্রে উল্লেখ করেন- গত এক মাসের ব্যবধানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে তিনটি বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজে জলদস্যুতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কয়েক কোটি টাকার মালামাল, জাহাজের সরঞ্জাম ও মূল্যবান যন্ত্রাংশ লুট হয়েছে। এতে বিদেশী জাহাজের মালিক, শিপিং এজেন্ট এবং নাবিকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
পত্রে চেম্বার সভাপতি আরো উল্লেখ করেন- চট্টগ্রাম বন্দর দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার। দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ কার্যক্রম এ বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বর্তমান সরকারের নানামুখী বাস্তব উদ্যোগ গ্রহণের ফলে ২০৩৫ সাল নাগাদ চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং ক্যাপাসিটি বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গৃহীত পদক্ষেপের কারণে একই সাথে চট্টগ্রাম বন্দর এতদঞ্চলের অন্যতম রিজিওনাল বিনিয়োগ ও ট্রান্সমোডাল লজিস্টিক হাবে পরিণত হবে। কিন্তু সম্প্রতি ঘটে যাওয়া জলদস্যুতার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের অর্জিত সুনাম ক্ষুণœ হবে। ফলে বন্দরের বহির্নোঙরে নিরাপত্তাহীনতা শুধু শিপিং শিল্পের জন্য নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তির জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।



