আনোয়ারায় বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চলের যাত্রা শুরু কাল

Printed Edition

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় আগামীকাল বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল (সিইআইজেড) প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। প্রায় চার হাজার ১৮৯ কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পকে দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদেশী বিনিয়োগভিত্তিক শিল্প উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) জানায়, আনোয়ারা উপজেলার কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে প্রায় ৭৮৩ একর জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চলটি গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ডেভেলপার চুক্তি স্বাক্ষরের পর পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হবে।

প্রকল্পটির মোট ব্যয়ের মধ্যে দুই হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ সহায়তা এবং এক হাজার ৭২২ কোটি টাকা সরকারি অর্থায়ন থেকে ব্যয় করা হবে। চীনের এক্সিম ব্যাংকের প্রেফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট (পিবিসি) সুবিধার আওতায় বৈদেশিক অর্থায়নের প্রস্তাব রয়েছে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হবে এক হাজার ২৩৫ মিটার দীর্ঘ জেটি লিংক সড়ক, এক হাজার ১৮১ মিটার প্রধান সড়ক, ২০ হাজার ৩০৪ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার পানি সংরক্ষণাগার, ৪ দশমিক ২৪ এমএমসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস ট্রান্সমিশন লাইন ও ডিস্ট্রিক্ট রেগুলেটিং স্টেশন, ২৫ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), ২০ হাজার ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, দৈনিক ৬০ টন সক্ষমতার কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ কেন্দ্র, প্রায় ১২ কিলোমিটার সীমানা প্রাচীর এবং দু’টি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র।

বেজার তথ্যানুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অন্তত এক লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সাথে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় আনোয়ারা আধুনিক শিল্প ও লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে প্রকল্পের ওপর অডিও-ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা, সাব-লিজ চুক্তি স্বাক্ষর, সিইআইজেডের স্লোগান উন্মোচন, ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের উদ্বোধন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) প্রেসিডেন্ট, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দেশী-বিদেশী অতিথিরা উপস্থিত থাকবেন।

আনোয়ারা স্বাধীন চেতনার প্রজন্ম ফাউন্ডেশনের সভাপতি ফরহাদুল ইসলাম বলেন, চাইনিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়িত হলে শুধু আনোয়ারা নয়, পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কর্ণফুলী টানেলের ব্যবহার বাড়বে এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, শিল্পাঞ্চলটি বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন এবং জাতীয় অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ধারাবাহিকতায় এ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রায় এক দশক পর সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।