নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপিই প্রথম শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। গতকাল শুক্রবার শাপলা স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘শাপলার শহীদগাথা’ শীর্ষক স্মরণ ও মূল্যায়ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ‘বিগত ১২টি নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচন ছিল অনেক বেশি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু। এই নির্বাচনে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই শাপলা শহীদদের স্মরণ করেছেন। সংসদে আমরা যে কারণে শাপলার শহীদদের স্মরণ করেছি, সেই কারণেই শহীদদের ব্যাপারে পরবর্তী দায়িত্বও আমরা গ্রহণ করব।’ সভাপতির বক্তব্যে শাপলা স্মৃতি সংসদের চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক বলেন, শাপলার শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান বর্তমান সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘৫ মে শাপলা আন্দোলন ছিল একটি ঐতিহাসিক সংগ্রামের প্রতীক। সৈয়দ আশরাফ যখন হেফাজতকে রাস্তা ছাড়ার কথা বলেছিলেন, তখন মাওলানা মামুনুল হকের অগ্নিগর্ভ বক্তব্য আমি রেডিওতে শুনেছিলাম। অন্যদিকে শেখ হাসিনা শাহবাগপন্থীদের উসকে দিয়েছিলেন। ৫ মের সমাবেশ কোনো দলের ছিল না; দেশপ্রেমিক সর্বস্তরের মানুষ সেখানে অংশ নিয়েছিল।’
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, আমাদের জাতীয় বীর ও শহীদের কিভাবে সম্মান করি, তার ওপর জাতীয়তার ভিত্তি নির্ভর করে। ২০১৩, ২০২১ ও ২০২৪ প্রতিটি সঙ্কটে আলেম-ওলামারা দেশের জন্য জেগে উঠেছেন। যদি শহীদদের যথাযথ সম্মান দিতে না পারি, তাহলে ভবিষ্যতের সঙ্কটে কেউ জীবন উৎসর্গে এগিয়ে আসবে না।’
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ১৩ দফার সাথে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু দাবি উত্থাপন করা গণতান্ত্রিক অধিকার। এই দাবিকে কেন্দ্র করে যে নির্মম দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে, তা ছিল গণতন্ত্রবিরোধী। সেদিন ভোরের আগেই পুরো ঢাকা পরিষ্কার করে ফেলা হয়েছিল। সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে তদন্তের আওতায় আনতে হবে। মিডিয়ার একটি অংশও সত্যের পক্ষে নয়, বরং আওয়ামী লীগের দালালি করেছে। তিনি সীমান্ত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘ওলামায়ে কেরামকে সচেতন ও প্রস্তুত থাকতে হবে। গেরুয়া আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে এবং সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।’
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী, শায়খ মুসা আল হাফিজ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, নেজামে ইসলাম পার্টির নির্বাহী আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী, সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, সংসদ সদস্য মাওলানা সাইদ উদ্দীন আহমাদ হানজালা, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সেক্রেটারি মুফতি রেজাউল করীম আবরার, সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, ড. সরোয়ার হুসাইন, শাপলা স্মৃতি সংসদের নির্বাহী সভাপতি মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, সহসভাপতি মাওলানা ইলিয়াস হামিদী এবং বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান।
এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম, লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট রুহুল আমিন সাদী, ইফতেখার জামীল প্রমুখ।



