আযাদ আলাউদ্দীন বরিশাল ব্যুরো
দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মাথায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন নগর প্রশাসনে দৃশ্যমান পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন। ১৬ মার্চ দায়িত্ব নেয়ার সময় ‘শাসক নয়, সেবক’ হওয়ার যে অঙ্গীকার তিনি করেছিলেন, নানা উদ্যোগের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘদিন স্থবির হয়ে থাকা উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সক্রিয় করে তিনি মাঠপর্যায়ের কাজে গতি এনেছেন। দায়িত্ব নেয়ার পরপরই ‘নাগরিক ভাবনা’ ও ‘উন্নয়ন সংলাপ’ শীর্ষক একাধিক আলোচনার আয়োজন করে তিনি বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মতামত সংগ্রহ করেন। এসব সংলাপ থেকে প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে কিছু পদক্ষেপ তাৎক্ষণিক বাস্তবায়ন করছেন এবং বেশ কিছু উদ্যোগ বর্তমানে চলমান রেখেছেন।
ঈদের আগেই তিনি নগরীর সহস্রাধিক পরিচ্ছন্নতা কর্মীর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেয়া ‘ঈদ উপহার’ আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছে দিয়েছেন। বরিশাল প্রেস ক্লাবসহ গণমাধ্যম কর্মী ও পেশাজীবীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে তিনি তার যাবতীয় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। নগরবাসীর সাথে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে চালু করা হয়েছে অনলাইন হেল্পডেস্ক। অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কারণে নাগরিক সেবার মানে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে জানান সচেতন নগরবাসীরা।
ভবনের নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ‘দীর্ঘদিনের ভোগান্তি’ জট নিরসনেও উদ্যোগ নিয়েছেন প্রশাসক। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আবেদনকারীদের মুখোমুখি সংলাপের মাধ্যমে জটিলতার কারণ চিহ্নিত করে প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা চলছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারকে সাথে নিয়ে তিনি বরিশাল নগরীর কাউনিয়ায় ‘ময়লার ভাগাড়’ একাধিকবার পরিদর্শন করেন। এরপর আধুনিক মডেল হিসেবে পরিচিত ফরিদপুর পৌরসভার ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। নগরীর বেলস্ পার্ক, বিবির পুকুর পাড়সহ বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাথ দখল করে দীর্ঘদিন যাবত জনদুর্ভোগ তৈরি করা অনেক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে তিনি নাগরিকদের দোয়া ও ভালোবাসা পাচ্ছেন।
বাংলাদেশী সাংস্কৃতিক জোট, বরিশাল-এর আহ্বায়ক এস এম সাব্বির নেওয়াজ সাগর বলেন, অ্যাডভোকেট শিরীন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর পরই টাউন হলের ‘অযৌক্তিক’ ভাড়া কমিয়ে ‘যৌক্তিক’ পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। এ জন্য তিনি সব স্তরের সাংস্কৃতিক কর্মী, সংগঠক ও পেশাজীবীদের প্রশংসা পাচ্ছেন।
বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক জি এম আতায়ে রাব্বি নয়া দিগন্তকে বলেন, অ্যাডভোকেট শিরীন আপা সবাইকে সম্মান ও মূল্যায়ন করছেন। এই ধারা চলতে থাকলে বরিশাল বিএনপিতে ভবিষ্যতে গ্রুপিংয়ের কোনো রাজনীতি থাকবে না। বরিশাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু বলেন, ‘স্থবির উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি ফিরেছে। সবাইকে সাথে নিয়ে কাজ করার প্রবণতা আশাব্যঞ্জক।’ ব্যবসায়ী নেতা জি এম আতায়ে রাব্বি জানান, ‘প্রশাসকের নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম নগর উন্নয়নে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।’
বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ অ্যাসোসিয়েশনের বরিশাল অঞ্চলের সাবেক কমিশনার ও একাধিক গ্রন্থের লেখক বেগম ফয়জুন নাহার শেলী বলেন, অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের জন্ম এবং বেড়ে ওঠা এই শহরেই। তিনি তার স্বপ্নের শহরকে মনের মতো সাজানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
গত এক মাসের সার্বিক কার্যক্রম বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট শিরীন নয়া দিগন্তকে বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার দিন সবার সামনে প্রকাশ্যেই বলেছি- ‘শাসক হিসেবে নয়, আপনাদের সেবক হয়ে থাকবো’। এই বাক্যটি সব সময় মনে রেখে পথ চলছি। স্থানীয়দের মতে, কর্মকাণ্ডের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বরিশাল নগরীর উন্নয়নের গতি আরো বেগবান হবে।


