নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানী ঢাকার মতিঝিল শিক্ষা থানা কেন্দ্রের ৪৪টি স্কুলের প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষায় ৯০৩ শিক্ষার্থীর ফলাফল বিভ্রাটের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে আজ রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সংক্ষুব্ধ অভিভাবকরা জানান, ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ নিয়ে দেশজুড়ে নানা বিতর্ক ও অসম্মতি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর একটি প্রধান কেন্দ্রে পরীক্ষা দেয়া ৪৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো ফলাফলই প্রকাশিত না হওয়ায় চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বঞ্চিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৪৪টি বিদ্যালয়ের (কেন্দ্র কোড ৩০০০৭৯) কোনো শিক্ষার্থীর নামই চূড়ান্ত ফলাফলের তালিকায় স্থান পায়নি। ফল বিপর্যয় বা ফলাফল পুরোপুরি আটকে থাকার এই তালিকায় রয়েছে রাজধানীর নামি-দামি এবং স্বনামধন্য বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল, মাদারটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (বাসাবো শাখা), ফয়জুর রহমান আইডিয়াল ইনস্টিটিউট, খিলগাঁও মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং আইডিয়াল মুসলিম বালক ও বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ ছাড়াও এই তালিকায় আরো রয়েছে আমানাহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, রাজারবাগ আইডিয়াল স্কুল, প্রাইম স্কুল অ্যান্ড কলেজ, খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঢাকা মডেল হাই স্কুল, আহমেদবাগ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, ইক্বরা বাংলাদেশ স্কুল, শহীদ জিয়া বাসাবো উচ্চ বিদ্যালয় এবং হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট ৪৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। হঠাৎ করে এতগুলো স্কুলের ফলাফল সম্পূর্ণ গায়েব বা স্থগিত হয়ে যাওয়ার পেছনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বে চরম অবহেলা নাকি কোনো কারিগরি ত্রুটি রয়েছে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। ফলাফল না পেয়ে অনেক অভিভাবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন।
একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেন, আমাদের সন্তানরা সারা বছর কঠোর পরিশ্রম করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিল। পরীক্ষার পর তাদের ভালো ফল করার আত্মবিশ্বাসও ছিল। কিন্তু কেন্দ্রভিত্তিক এই গাফিলতির কারণে আজ পুরো স্কুলের ফলাফলই আটকে আছে। এতে শিশুদের মনে গভীর মানসিক আঘাত লেগেছে। কয়েকটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তারা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। তবে এখনো পর্যন্ত এই ত্রুটির সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বা কবে নাগাদ এই বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের ফলাফল পুনর্মূল্যায়ন করে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো আশ্বাস মেলেনি।
অবশ্য বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেহেতু প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের জন্য একটা সংবেদনশীল। কাজেই এর ফলাফল প্রকাশেও ডিপিই থেকে আরো সতর্ক দৃষ্টি রাখা জরুরি ছিল। এখন বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে পরবর্তী পদক্ষেপ সেভাবেই নেয়া হবে।



