প্রযুক্তির দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকানোর পথে চীন

Printed Edition
প্রযুক্তির দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকানোর পথে চীন
প্রযুক্তির দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকানোর পথে চীন

আহমেদ ইফতেখার

মার্কিন স্টার্টআপগুলো যেখানে দফায় দফায় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড পায়, সেখানে চীনা কোম্পানিগুলো বিনিয়োগকারীর অভাবে দ্রুত পাবলিক লিস্টিং বা শেয়ার বাজারে যেতে বাধ্য হচ্ছে। জেডডটএআই এবং মিনিম্যাক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল নগদ অর্থ জোগাড় করতেই সময়ের আগে বাজারে নামছে

কয়েক দশক ধরেই ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে নানা ভৌগোলিক বিষয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে লড়াই চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়েছে। এআইকে বলা হচ্ছে বৈশ্বিক ক্ষমতার নতুন মুদ্রা। চীন নতুন এই মুদ্রা কাজে লাগিয়ে বেশ ভালোভাবেই চাপে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রকে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির প্রভাবে বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থানের বিভিন্ন খাতসহ জীবনের অন্যান্য মৌলিক ক্ষেত্রগুলোয় আমূল পরিবর্তন এসেছে। শুরুর দিকে এ বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও বর্তমানে চীনের পদচারণা শুধু দৃশ্যমানই নয় বরং অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক পেড্রো ডোমিঙ্গোস জানান, চীন এখন যুক্তরাষ্ট্রের সমান গতিতে এগোচ্ছে। তারা বহু বছর ধরে ব্যবধান কমিয়েছে। এখন অগ্রভাগে রয়েছে। আরো এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলে যুক্তরাষ্ট্র অনেক এগিয়ে ছিল, তা আসলে ভুল ধারণা। ডিপসিক, কিউওয়েন-৩ ও কিমি কে২ শক্তিশালী এআই মডেলগুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন চীনা সংস্থা ডেভেলপারদের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম বিনামূল্যে ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে।

বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ২০টি এআই মডেলের মধ্যে ১৪টিই চীনের তৈরি। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখনো শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। দ্রুত এআই অগ্রগতি সত্ত্বেও এলএলএমকে দ্রুত প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত চিপ তৈরির ক্ষেত্রে চীন এখনো পিছিয়ে রয়েছে। মার্কিন রফতানি নিয়ন্ত্রণ চীনের অত্যাধুনিক সেমিকন্ডাক্টর ও চিপ তৈরির সরঞ্জামের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে চীন পুরোনো হার্ডওয়্যারের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোর ইউসি লর এআই ল অ্যান্ড ইনোভেশন ইনস্টিটিউটের পরিচালক রবিন ফেল্ডম্যান এআই প্রতিযোগিতাকে নতুন ধরনের স্নায়ুযুদ্ধ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এআই যুদ্ধে সেই দেশই জয়ী হবে, যারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি অর্জন করতে পারবে ও তা ধরে রাখতে পারবে।

চীনা এআই শিল্পের অগ্রযাত্রায় সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কম্পিউটিং শক্তি ও উন্নত সেমিকন্ডাক্টরের অভাব। ওয়াশিংটনের রফতানি নিয়ন্ত্রণের কারণে এনভিডিয়ার লেটেস্ট ‘ব্ল্যাকওয়েল’ বা ‘রুবিন’ সিরিজের চিপগুলো চীন হাতে পাচ্ছে না। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এনভিডিয়ার পুরনো ‘এইচ২০০’ চিপ রফতানির অনুমতি দিয়েছে। তবে বেইজিং এখনো এ চিপ আমদানির আনুষ্ঠানিক অনুমতি প্রদান করেনি।

পুঁজির ক্ষেত্রেও পিছিয়ে আছে চীন। মার্কিন স্টার্টআপগুলো যেখানে দফায় দফায় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড পায়, সেখানে চীনা কোম্পানিগুলো বিনিয়োগকারীর অভাবে দ্রুত পাবলিক লিস্টিং বা শেয়ার বাজারে যেতে বাধ্য হচ্ছে। জেডডটএআই এবং মিনিম্যাক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল নগদ অর্থ জোগাড় করতেই সময়ের আগে বাজারে নামছে।

তবে মডেলের শক্তিতে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও প্রযুক্তির প্রয়োগে চীন বেশ এগিয়ে। আইডিসির এআই গবেষণা প্রধান দীপিকা গিরি বলেন, চীন দ্রুত সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী অ্যাপ্লিকেশন এবং শিল্পক্ষেত্রে এআই যোগ করতে পেরেছে। গত মাসে বেইজিং ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে এআই ব্যবহারের একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা উন্মোচন করেছে। এটি তাদের শিল্প বিপ্লবকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাবে।