নয়া দিগন্ত ডেস্ক
খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন একই পরিবারের তিনজন। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানে নিহত হয়েছেন আরো পাঁচজন।
খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনায় ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে দিঘলিয়া উপজেলার গাজিরহাট ইউনিয়নের ডোমরা গ্রামের এই দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক শিহাবের স্ত্রী ফারজানা (২২), শ্যালিকা রুবিয়া (১৬) ও দুই বছরের মেয়ে মাইমুনা নিহত হন। শিহাবকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের বাড়ি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার উথলি গ্রামে।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) শুভ্র প্রকাশ দাস জানান, খুলনা থেকে একটি মোটরসাইকেলে (খুলনা মেট্রো ল-১২-২৪৮৪) শিহাব শেখ তার স্ত্রী ফারজানা, শ্যালিকা রুবিয়া ও দুই বছরের মেয়ে মাইমুনাকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার উথলি গ্রামে যাচ্ছিলেন। অপর দিকে দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট থেকে ধানবোঝাই একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ট-১৬-১৬৪৯) রূপসার দিকে আসছিল। রাত সাড়ে ১০টার দিকে দিঘলিয়া উপজেলার ডোবরা গ্রামের একটি মোড়ে মোটরসাইকেল ট্রাকের নিচে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ফারজানা, রুবিয়া ও শিশু মাইমুনা নিহত হয়। আহত শিহাবকে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। ঘাতক ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে।
কাহালু (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে কাহালু উপজেলার নারহট্ট ইউনিয়নের বউবাজার এলাকায় শনিবার সকাল ১০টার দিকে ট্রাক-পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক হেলপারসহ চারজন নিহত হয়েছেন।
জানা গেছে, নওগাঁ দিক থেকে ছেড়ে আসা একটি পিকআপভ্যান (ঢাকা মেট্রো ন ২২-১৯৩৪) বগুড়ার দিকে যাওয়ার সময় বগুড়া দিক থেকে আসা অপর একটি দ্রুতগামী ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ট ১২-৩৭৭৯)-এর সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ট্রাকের চাপায় পিকআপ ভ্যানের সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। এ সময় পিকআপ ভ্যানের চালক, হেলপারসহ চারজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে কাহালু থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের লাশ উদ্ধার এবং সুরতাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন।
নিহত একজনের পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি পাওয়া গেলেও অন্য তিনজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী নিহতের নাম লুৎফর রহমান, তিনি ময়মনসিংহ জেলা সদরের রাঘবপুর গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে।
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের সাথে বাইসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত কৃষক ইলিয়াস শেখ (৩৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার সোতাশী মোমিন মার্কেট এলাকায় মাঝকান্দি ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শনিবার সকাল ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত ইলিয়াস শেখ উপজেলার ময়না ইউনিয়নের বান্দুকগ্রামের বাসিন্দা বাকু শেখের ছেলে। এ দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক সোতাশী গ্রামের সেলিম মিয়ার ছেলে সোহাগ মিয়াও আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে ইলিয়াস শেখ বাইসাইকেলযোগে বোয়ালমারীর দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তার বাইসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর মোটরসাইকেলটি ইলিয়াস শেখ ও তার বাইসাইকেলকে কয়েক গজ টেনে নিয়ে যায়। পরে মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা গুরুতর আহত ইলিয়াস শেখকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেয়া হলে শনিবার সকাল ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।



