নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। পরে লাশ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়। এই ঘটনায় পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া অভিযুক্ত সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) গ্রেফতার করে ডিএমপি পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এই স্বামী-স্ত্রীসহ আরো একজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করা হয়। গ্রেফতার দু’জন আসামিকে আদালতে পাঠানো হলেও সোহেল রানাকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।
গতকাল বুধবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া শাখার উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এন এম নাসিরুদ্দিন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সোহেল রানা স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় আদালতে তা রেকর্ডের আবেদন করা হয়। সেই সাথে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে আটক রাখারও আবেদন করা হয়।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, একই ভবনে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিল রামিসার পরিবার। দুই মাস আগে অভিযুক্ত দম্পতি বিপরীত দিকের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া আসে। ঘটনার দিন সকালে শিশুটিকে স্কুলে পাঠাতে খুঁজতে গিয়ে তার মা ফ্ল্যাটের সামনে জুতা দেখতে পান, এরপরই সন্দেহের সূত্রপাত হয়। শিশুটির মা যখন দরজায় কড়া নাড়ছিলেন, তখন ভেতরে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এ সময় অভিযুক্ত নারী স্বপ্না দরজা আটকে রেখে মূল অভিযুক্তকে পালাতে সহায়তা করেন এবং জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান মূল অভিযুক্ত।
পুলিশ আরো জানায়, পরে প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে একটি বিকাশ লেনদেন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। সোহেল পেশায় একজন রিকশা মেকানিক। তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না জানিয়েছেন, সোহেল রানা বিকৃত মানসিকতার একজন ব্যক্তি এবং তিনি তাকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতেন। তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, নির্যাতন বা রক্তক্ষরণের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হতে পারে। পরে আলামত গোপনের উদ্দেশ্যে লাশ ক্ষতবিক্ষত করা হয়।
ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ: বুধবার এক বিবৃতিতে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি রিদওয়ান মাযহারী এবং সাধারণ সম্পাদক সাআদ বিন জাকির বলেন, মিরপুরে রামিসার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার হওয়ার ঘটনা দেশবাসীর বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনা দেশে চলমান বিচারহীনতার সংস্কৃতির এক ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ। তারা বলেন, যে পৈশাচিকতায় শিশুটিকে হত্যা করে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং দেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছে, তা কোনো সভ্য সমাজে কল্পনা করা যায় না।



