খুলনা মহানগরীর ওজোপাডিকো প্রধান অফিসের গাছপালা

বক ও পানকৌড়ির নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্র

Printed Edition
বক ও পানকৌড়ির নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্র
বক ও পানকৌড়ির নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্র

এরশাদ আলী খুলনা ব্যুরো

খুলনা মহানগরীর বয়রাস্থ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশের সময় পশ্চিম দিকের গাছগুলোর দিকে নজর দিলেই দৃশ্যটি নজরে পড়বে। ধবল বক আর কালো পানকৌড়ির ওড়াউড়ি। অনেকে ডালে বাঁধা বাসাগুলোর ভেতর চুপচাপ বসে আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বক ও পানকৌড়ির প্রজনন মওসুম মে থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত। ওজোপাডিকোর এ অফিসের কর্মকর্তারা জানান, এ সময় এলেই পাখিগুলো সেখানকার গাছগুলোতে বাসা বেঁধে ডিম পেড়ে বাচ্চা ফোটায়। বাচ্চাগুলো লালন পালন করে। বাচ্চা উড়তে শিখলে তাদের নিয়ে উড়াল দেয়। আবার পরবর্তী মৌসুমে একই সময়ে তাদের দেখা মেলে। একসময় সেখানে শতাধিক গাছের বনাঞ্চল ছিল। হাজার হাজার পাখি আসত। অফিস নির্মাণের জন্য কাটা পড়ায় এখন অবশিষ্ট রয়েছে গোটা বিশেক গাছ। এই স্বল্পসংখ্যক গাছই আতিথেয়তা দিয়ে যাচ্ছে পাখিগুলোকে।

২০০২ সালে খুলনা-বরিশাল বিভাগ ও বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা এলাকার বিদ্যুৎ বিতরণকারী পিডিবির খুলনা আঞ্চলিক অফিস এই ওজোপাডিকো অফিস। বয়রা করিমনগরের যে স্থানে ওজোপাডিকোর প্রধান কার্যালয়টি অবস্থিত সেখানে মহানগরী এলাকার ব্যস্ততা নেই। অফিসের সামনের একমাত্র রাস্তাটি নগরীর নিউমার্কেটকে সংযুক্ত করেছে। সে রাস্তায় কেবল রিকশা ও ইজিবাইক চলে। ওজোপাডিকো নিজস্ব গাড়ির বাইরে কার-মাইক্রোবাস কমই চলে এই রাস্তায়। তাই পাখিদের বিরক্ত করার মত ভারী যানবাহনের একটানা শব্দ নেই এখানে। অফিসের সামনে আছে বিশালাকার ডোবা ধরনের জলাশয়। বাড়িঘরও তেমন গড়ে ওঠেনি। আর পেছনে পশ্চিম দিকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বড়সড় ক্যাম্পাস ব্যস্ত খুলনা-যশোর মহাসড়ককে দূরে রেখেছে। এ ছাড়া এ অফিসটিকে সাধরণ মানুষের যাতায়াতেরও তেমন প্রয়োজন পড়ে না। ফলে সবদিক থেকে নিরিবিলি।

সেই সাথে ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষও পাখিদের বিরক্ত না করার জন্য সেখানে কর্মরতদের নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন। ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আলমগীর কবিরের সাথে পাখিদের নিয়ে আলাপ তুলতেই তিনি উচ্ছ্বসিত হয়ে বললেন, আমি ১২ বছর ধরে এখানে আছি। বাউন্ডারির ভেতরেই বাসা। পাখিদের সঙ্গ আমার ভালোই লাগে। বিশেষ করে সন্ধ্যার দিকে ঝাঁক বেঁধে যখন ওরা বাসায় ফেরে, দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। অবাক করার বিষয় যে, জ্ঞান-বুদ্ধি ওদের ভালোই আছে। লক্ষ্য করেছি সন্ধ্যায় দল বেঁধে ফিরে ওরা সবাই নিজের নিজের বাসাতেই নেমে যায়। এ বিষয়ে ওদের বিন্দুমাত্র ভুল হয় না।

প্রধান প্রকৌশলী আবদুল মজিদ বলেন, আমাদের বাউন্ডারির ভেতরে নতুন অফিস করতে অনেক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। ফলে আগের তুলনায় পাখির সংখ্যাও কমে গেছে। তিনি বলেন, ঘুর্ণিঝড় আম্ফানের সময় অনেক পাখি আহত হয়ে অথবা বাতাসের তোড়ে ওপর থেকে মাটিতে পড়ে যায়। পানকৌড়ি মাটিতে পড়লে সহজে উড়তে পারে না। তখন অনেকেই পাখিগুলোকে ধরে নিয়ে গেছে। বর্তমানে পাখি ধরা বা শিকার করা সম্পূর্ণ নিষেধ করে দিয়েছি। পাখিগুলো রক্ষা করতে আমরা যে সামান্য ভূমিকা রাখতে পারছি, এমনটা ভাবতেও ভালো লাগে।