আইইবির সেমিনারে বক্তারা

প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি রোধ বড় চ্যালেঞ্জ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

দেশের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রকল্প গ্রহণের আগে যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি), বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ও কার্যকর প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতির উপরও চাপ বাড়বে। সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময় ও ব্যয়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের সংস্কৃতি গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে গত বুধবার ‘ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকল্পে প্রকল্প নিয়ন্ত্রণের মৌলিক ধারণা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। আইইবির কেমিকৌশল বিভাগের উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, দেশের শিল্পখাতে, বিশেষ করে পোশাকশিল্পের রঙ করা, ধোয়া ও উৎপাদন কার্যক্রমে বিপুল পরিমাণ পানি ব্যবহৃত হয়। উন্নত বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশে শিল্পে পানির ব্যবহার বেশি হওয়ায় একদিকে অপচয় বাড়ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পানি পুনর্ব্যবহার, কম পানি ব্যবহারকারী প্রযুক্তি ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই অপচয় কমানো সম্ভব। টেকসই শিল্পায়নের জন্য পানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানো জরুরি।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাস্তবায়ন পর্যায়ে প্রায়ই সময় ও ব্যয় বেড়ে যায়, যা উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। অতীতে কিছু ক্ষেত্রে প্রকল্পের নামে অর্থ আত্মসাতের ঘটনাও ঘটেছে। এ কারণে প্রকল্প গ্রহণের আগে যথাযথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা এবং কার্যকর প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইইবির প্রেসিডেন্ট ও রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু) বলেন, কোনো প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে মৌলিক ধারণা থাকা জরুরি। একটি প্রকল্প কতটা বাস্তবসম্মত, অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদে উপযোগী হবে, তা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়।

তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলো দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পনা ও গবেষণা করলেও প্রকল্প বাস্তবায়ন তুলনামূলক কম সময়ে শেষ করে। অন্যদিকে বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রে স্বল্প সময়ের পরিকল্পনার পর বাস্তবায়নে ২০ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত লেগে যায়। এতে প্রকল্পের ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যায় এবং কাক্সিক্ষত সুফল পেতে দেরি হয়।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলের (বুটেক্স) ভিসি অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো: জুলহাস উদ্দিন বলেন, প্রকল্প পরিকল্পনার শুরুতেই বাস্তবসম্মত বাজেট ও সময়সীমা নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পরিকল্পনার অভাবে বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয় এবং ব্যয় বাড়ে।

আইইবির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো: সাব্বির মোস্তফা খান স্বাগত বক্তব্যে বলেন, প্রকল্প অনুমোদনের সময় যে পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়, বাস্তবায়নের পর্যায়ে প্রায়ই তার সাথে বড় ধরনের অমিল দেখা যায়। ফলে সময়সীমা ও ব্যয় বারবার সংশোধন করতে হয়, যা জাতীয় অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শেভরন বাংলাদেশের বেস বিজনেস অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স ম্যানেজার প্রকৌশলী বিপ্লব কুমার ধর।

সভাপতিত্ব করেন আইইবির কেমিকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী সালমা আখতার। সঞ্চালনা করেন বিভাগের সম্পাদক প্রকৌশলী মো: শাওকাত ফেরদৌস। ধন্যবাদ জানান ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো: ইদ্রিস আলী।