ভোলা প্রতিনিধি
ভোলায় কোস্টগার্ড ও সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার অভিযানে প্রায় ৯৪ লাখ টাকার ইলিশ জব্দের ঘটনায় হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলেছেন চরফ্যাশনের সামরাজ মৎস্য ঘাটের ব্যবসায়ীরা। এ ঘটনায় গত রোববার সকালে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১২ মে সামরাজ মৎস্য ঘাট থেকে দুই ট্রাক ইলিশ মাছ নিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ী ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, মাছগুলো মেঘনা নদী থেকে আহরণ করা হয়েছিল এবং এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার দেয়া বৈধ অনুমতিপত্রও ছিল। কিন্তু ট্রাক দু’টি ভোলা সদরে পৌঁছালে রাতে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোন অভিযান চালিয়ে মাছসহ ট্রাক দু’টি জব্দ করে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, সরকার ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিলেও বিগত ১ মে থেকে মেঘনা নদীতে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। এরপর জেলেরা নদীতে মাছ ধরা শুরু করেন। তাদের কাছ থেকে কেনা মাছ ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে এই জব্দের ঘটনা ঘটে।
সামরাজ মৎস্য আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি মো: তারেক আজিজ পাটোয়ারী স্বাক্ষরিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জব্দ করা মাছের পরিমাণ ছিল সাত হাজার ৯১৩ কেজি, যার বাজারমূল্য প্রায় ৯৪ লাখ ২ হাজার ৭৮৪ টাকা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সামান্য কিছু মাছ এতিমখানা ও অসহায়দের মধ্যে বিতরণ করা হলেও বাকি মাছের বিষয়ে তারা কোনো তথ্য পাননি। এ সময় কোস্টগার্ড সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের ব্যারাক থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগও করা হয়। ব্যবসায়ীরা আরো দাবি করেন, এ ঘটনায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তাদের প্রশ্ন, ‘চরফ্যাশনের মৎস্য কর্মকর্তা যে মাছকে নদীর মাছ হিসেবে প্রত্যয়ন দিয়েছেন, ভোলা সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সেটিকে কিভাবে সামুদ্রিক মাছ হিসেবে চিহ্নিত করলেন।’
লিখিত অভিযোগে ব্যবসায়ীরা আরো উল্লেখ করেন, ইলিশ একটি অভিবাসী মাছ, যা জীবনচক্রের বিভিন্ন সময়ে নদী, মোহনা ও সমুদ্রে বিচরণ করে। তাই শুধু দেখে নদী ও সমুদ্রের ইলিশ আলাদা করা কঠিন। তাদের দাবি, সমুদ্র থেকে সরাসরি ধরা মাছ বা সামুদ্রিক নৌযান থেকে নামানো মাছ ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে সামুদ্রিক মৎস্য আইনে ব্যবস্থা নেয়া প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কাছে অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জেলা প্রশাসক ডা: শামীম রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের সাথে আলোচনা করা হবে। এদিকে জব্দ করা ইলিশ নদীর না সমুদ্রের, মাছ শহর থেকে কেন জব্দ করা হলো এবং বিপুল মূল্যের মাছ নিলামে বিক্রি না করে বিভিন্ন স্থানে বিতরণ করা হয়েছে কি না- এসব প্রশ্ন নিয়ে ভোলাজুড়ে আলোচনা চলছে। বিষয়টি এখন স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



