চড়া সুদে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ১৯০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ নিচ্ছে সরকার। এই ঋণের মধ্যে এক দিকে যেমন বাজেট সহায়তা রয়েছে। তেমন নির্দিষ্ট প্রকল্পের বিপরীতেও ঋণ নেয়া হচ্ছে। এই সব ঋণের সুদের হার প্রায় ৫ শতাংশ এবং পরিশোধের সময়সীমাও কম।
গতকাল মঙ্গলবার শেরে বাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে নন-কনসেশনাল (অনমনীয়) ঋণ প্রস্তাবগুলো অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সংশ্লিষ্ট সচিব ও উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত ঋণের মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক(এডিবি) এর কাছ থেকে ৭৫ কোটি ডলার পাওয়া যাবে বাজেট সহায়তা হিসেবে। এই সংস্থা থেকে ৩০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়া যাবে বিদ্যমান ২১০ কিলোমিটার ঢাকা-সিলেট জাতীয় হাইওয়ের ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে। ঋণের অর্থে এই সড়কটি দুই লেনের পরিবর্তে চারলেনে রূপান্তর করা হচ্ছে।
চীনা বহুজাতিক ব্যাংক এআইআইবি কাছ থেকে ২৫ কোটি ডলার ঋণও অনুমোদন করা হয়েছে গতকাল । এ ছাড়া জাপানী উন্নয়ন সহযোগিতা জাইকা থেকে ৫০ কোটি ডলার এবং ওপেক ফান্ড থেকে ১০ কোটি ডলারের ঋণও অনুমোদন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেয়ার পর এটি নন-কনসেশনাল ঋণ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির প্রথম বৈঠক। সরকারের এখন প্রচুর বিদেশী ঋণের প্রয়োজন। তাই কিছুটা চড়া সুদের এই ঋণ প্রস্তাবগুলো অনুমোদন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত চলতি অর্থবছরে আট মাসে রাজস্ব ঘাটতি লাখ কোটি টাকার ঘর ছুঁই ছুঁই করছে। এ পরিস্থিতিতে পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মেটানোর জন্য সরকারের প্রচুর অর্থ প্রয়োজন। বিশেষ করে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ থেকে সরকার চলতি বছরে অন্ততপক্ষে ৩০০ কোটি ডলার ঋণ প্রাপ্তি আশা করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই দুটি বড় অর্থলগ্নিকারি সংস্থা ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে সরকারকে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।



