জেট ফুয়েলের দাম কমলেও প্রভাব পড়ছে না অভ্যন্তরীণ ভাড়ায়

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। গতকাল নতুন মূল্য ঘোষণা করা হয়। এতে টানা তিন দফা বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির পর এবার লিটারপ্রতি প্রায় ২২ টাকা কমানো হয়েছে, যা দেশের বিমান পরিবহন খাতে কিছুটা স্বস্তি ফেরাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে, এতে কমছে না অভ্যন্তরীণ রুটের বিমান ভাড়া।

বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান চলাচল খাতের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এওবি) সেক্রেটারি জেনারেল ও নভো এয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, যখন জেট ফুয়েলের দাম লিটারে ৯৫ টাকা থেকে ২০২ টাকা হয় তখন যশোর ও রাজশাহী রুটে যাত্রীপ্রতি বিমান ভাড়া ১ হাজার টাকা ও দেশের অন্য রুটগুলোতে ১২০০ টাকা বাড়ানো হয়। কিন্তু ২০২ টাকা থেকে যখন ২২৭ টাকা হয় তখন ভাড়া বাড়ানো হয়নি। তাই ২২ টাকা কমলেও এখনই ভাড়া কমানো যাচ্ছে না। ২০৫ টাকা থেকে কমলে তখন ভাড়া কমানোর বিষয়ে বিবেচনা করা হবে।

বিইআরসি ঘোষিত নতুন মূল্য অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটের ফাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২২৭ টাকা ৮ পয়সা থেকে কমিয়ে ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই সাথে আন্তর্জাতিক রুটের জেট ফুয়েলের দামও কমানো হয়েছে। আগে প্রতি লিটার জ্বালানির মূল্য ছিল ১ দশমিক ৪৮০৬ মার্কিন ডলার (শুল্ক ও মূসকমুক্ত), তা এখন কমিয়ে ১ দশমিক ৩৩৮৫ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই মূল্য গতকাল রাত ১২টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জেট ফুয়েলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ছিল ৯৪ টাকা ৯৩ পয়সা। ফেব্রুয়ারিতে সামান্য বাড়িয়ে তা করা হয় ৯৫ টাকা ১২ পয়সা। কিন্তু ফেব্রুয়ারির শেষভাগে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা দেখা দেয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের জ্বালানি বাজারেও।

মার্চ মাসে প্রথম দফায় দাম এক লাফে ৯৫ টাকা ১২ পয়সা থেকে বেড়ে ১১২ টাকা ৪১ পয়সা হয়। পরে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় দাম বাড়িয়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। এরপর তৃতীয় দফায় আরো তা ২২৭ টাকার ওপরে চলে যায়।