নোয়াখালীতে ৪০ হাজার গ্রাহকের টাকা আটকে কোটি টাকার কারবার

Printed Edition

মুহাম্মদ হানিফ ভুঁইয়া, নোয়াখালী অফিস

নোয়াখালী জেলায় দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংযোগ স্থগিত থাকায় লাখ লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। একই সাথে প্রায় ৪০ হাজার গ্রাহক ডিমান্ড নোটের টাকা জমা দিয়েও বছরের পর বছর সংযোগ না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অভিযোগ উঠেছে, এ সুযোগে অসাধু ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট দফতরের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে অবৈধ সংযোগ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে, ফলে সরকারও বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের আওতাধীন মাইজদী, বেগমগঞ্জ, সেনবাগ, সোনাইমুড়ী, চাটখিল ও কোম্পানীগঞ্জ (বসুরহাট) এলাকায় ২০০৭ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার গ্রাহক গ্যাস সংযোগের জন্য ডিমান্ড নোট বাবদ জনপ্রতি চার হাজার ৫০০ টাকা জমা দেন। কিন্তু ২০১০ সালে সরকার গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দিলে তারা সংযোগ থেকে বঞ্চিত হন।

পরবর্তীতে ২০১৩ সালের জুনে সংযোগ আংশিক চালু হলেও পুরনো গ্রাহকদের অনেকেই সংযোগ পাননি। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে নতুন গ্রাহকদের সংযোগ দেয়া হয়েছে। ২০১৪ সালে আবার সংযোগ চালুর উদ্যোগ নেয়া হলে ৫২ কিলোমিটার এমএস পাইপ স্থাপনের টেন্ডার হয় এবং কাজ শুরু হয়। কিন্তু ২০১৬ সালের জুলাইয়ে পুনরায় গ্যাস সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

তবে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে সংযোগ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ নেই। অভিযোগ রয়েছে, শহরের বহুতল ভবন থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলে পুরনো লাইনের সাথে অবৈধভাবে এক্সটেনশন সংযোগ দিয়ে বিপুল অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এতে সরকার প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব হারাচ্ছে।

অন্য দিকে, দীর্ঘদিন ধরে ডিমান্ড নোটের টাকা জমা দিয়েও সংযোগ না পাওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জমাকৃত ডিমান্ড নোটের সঠিক সংখ্যা জানাতেও অপারগতা প্রকাশ করেছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও বেগমগঞ্জ এলাকায় প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন হলেও স্থানীয়দের সংযোগ না দিয়ে তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। তারা দ্রুত স্থানীয় পর্যায়ে গ্যাস সংযোগ চালুর দাবি জানান।

এ বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) শাহা আলম জানান, ডিমান্ড নোট জমাদানকারী গ্রাহকের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা তার কাছে নেই। অবৈধ সংযোগের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি আংশিক সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি তদন্তে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে, তবে জড়িতদের সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা এখনো সম্ভব হয়নি।