নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা উন্নত ও রূপান্তরিত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত রূপরেখা বা ‘পলিসি রোডম্যাপ’ উন্মোচন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) অনুষ্ঠিত “ভিশন ফর এ বেটার বাংলাদেশ” শীর্ষক এক সেমিনারে এই প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক থিংক-ট্যাংক ‘দ্য ফিউচার ইনস্টিটিউট’ এবং ইউআইইউ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সেমিনারে ‘ভিশন ফর এ বেটার বাংলাদেশ : এ পলিসি রোডম্যাপ ফর ট্রান্সফরমেশনাল গভর্ন্যান্স’ শীর্ষক একটি গবেষণাপত্র (পলিসি পেপার) উপস্থাপন করা হয়। ছয়টি দেশের ২০ জনেরও বেশি বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে প্রণীত এই নির্দলীয় নীতি-প্রস্তাবনায় বাংলাদেশের সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে দ্য ফিউচার ইনস্টিটিউটের পরিচালক রাইয়ান আজমী বলেন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও মানবিক মর্যাদাকে কেন্দ্রে রেখে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করাই এই রূপরেখার মূল লক্ষ্য। তিনি স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার চেয়ে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এই পলিসি পেপারের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো ‘সার্বভৌমত্বের সাতটি আঙ্গিক’। রাজনীতি, অর্থনীতি, খাদ্যব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, সংস্কৃতি, নিরাপত্তা এবং প্রাকৃতিক সম্পদ- এই সাতটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উন্নত রাষ্ট্রের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কৌশল এতে বর্ণনা করা হয়েছে। এ ছাড়াও প্রশাসনিক সংস্কার, জাতীয় নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো জাতীয় ইস্যুগুলোকেও অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।
সেমিনারে প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সিনিয়র সচিব ড. কে এম কবিরুল ইসলাম এবং ইউআইইউ-এর অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, দুর্নীতি দমন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের সংস্কার ছাড়া এই রূপরেখা বাস্তবায়ন কঠিন হবে।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ কর্নেল অব: আশরাফ আল দ্বীন এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ড. সাব্বির আহমেদ টেকসই অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। আলোচনা পর্বে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ কে এম শাহরিয়ার কবির ও ব্যারিস্টার শায়খ মাহদি বিচারিক সংস্কারের আইনি দিকগুলো বিশ্লেষণ করেন।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই গবেষণাপত্রটি বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে কাজ করবে। এটি কেবল একটি তাত্ত্বিক দলিল নয় বরং দেশের প্রয়োজন মেটানোর একটি প্রায়োগিক রূপরেখা, যা ভবিষ্যতে কার্যকর জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নে সহায়ক হবে। সেমিনারে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, আইন বিশেষজ্ঞ এবং উচ্চপদস্থ প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



