ঈদের আগে চড়া আদার দাম স্বস্তিতে পেঁয়াজ-রসুন

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। কোরবানির গোস্ত রান্নাকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে বেড়েছে মসলার চাহিদা। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার মসলার বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও আদার দামে আবারো ঝাঁজ দেখা দিয়েছে। অবশ্য পেঁয়াজ ও রসুনের দামে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।

গতকাল রাজধানীর কাওরান বাজার, মিরপুর-৬ ও দোয়ারীপাড়া বাজার ঘুরে দেখা যায়, আদা ছাড়া অধিকাংশ মসলার দাম আগের মতোই রয়েছে। তবে স্থানীয় ছোট বাজারগুলোতে বড় বাজারের তুলনায় কিছু পণ্যে অতিরিক্ত দাম আদায় করা হচ্ছে।

বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আদা ২০০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেশি। ব্যবসায়ীদের দাবি, আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজার ও সরবরাহ পরিস্থিতির প্রভাবে আদার দাম বেড়েছে। পাশাপাশি দেশী আদার সরবরাহও বর্তমানে কম।

এ দিকে দেশী পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪০-৫০ টাকায়। আমদানি করা রসুনের দাম ১৪০-১৬০ টাকার মধ্যে থাকলেও দেশী রসুন বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়।

মিরপুর-৬ বাজারে বিক্রেতা জিল্লুর রহমান বলেন, আদার দাম কিছুটা বাড়লেও পেঁয়াজ, রসুন কিংবা শুকনো মরিচের দামে তেমন পরিবর্তন নেই। বাজার এখন মোটামুটি স্বাভাবিক।

ঈদ উপলক্ষে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে গরম মসলার। তবে এবার জিরা, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ ও গোলমরিচের বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যায়নি। বাজারে প্রতি ১০০ গ্রাম জিরা ৬০-৭০ টাকা, এলাচ ৪৫০-৫০০ টাকা, কালো এলাচ ৩৮০-৪০০ টাকা, দারুচিনি ৪৫-৫০ টাকা, লবঙ্গ ১৩০-১৫০ টাকা এবং গোলমরিচ ১৪০-১৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

দোয়ারীপাড়া বাজারে মসলা ব্যবসায়ী আবু হোসেন বলেন, ডলার সঙ্কটের সময় মসলার দাম যেভাবে বেড়েছিল, এখন সেই চাপ অনেকটাই কমেছে। এবার ঈদ উপলক্ষে নতুন করে গরম মসলার দাম বাড়েনি।

তবে পাড়া-মহল্লার ছোট দোকানগুলোতে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। অনেক দোকানে জিরা, এলাচসহ বিভিন্ন মসলায় অতিরিক্ত দাম রাখা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতি ১০০ গ্রামে ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেয়ার অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।

মিরপুর, রূপনগর বাসিন্দা গৃহিণী শায়লা পারভীন বলেন, বড় বাজারে দাম স্বাভাবিক থাকলেও মহল্লার দোকানে গিয়ে দেখি জিরা ও এলাচের দাম অনেক বেশি। ঈদের সময় ছোট দোকানিরা সুযোগ নেয়। এ দিকে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, তারা কম পরিমাণে পণ্য কেনায় পরিবহন ও সংরক্ষণ খরচ বেশি পড়ে। ফলে বড় বাজারের সমান দামে বিক্রি করা সম্ভব হয় না।

মসলার বাজারে স্থিতিশীলতা থাকলেও ডিমের দামে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম ১৫০-১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্য দিকে, ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১৮০-১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৪০-৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ দিকে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বিভিন্ন ধরনের সবজি প্রতি কেজি ৬০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ৮০- ১০০ টাকার মধ্যে ছিল।

বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির এক কর্মকর্তা জানান, ঈদ উপলক্ষে এবার মসলার আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতি আগের বছরের তুলনায় ভালো। পাইকারি বাজারে পর্যাপ্ত মজুত থাকায় বড় বাজারগুলোতে অনেক মসলার দাম বরং কিছুটা কমেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের বাজার তদারকি ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে ঈদের আগে আদার দামও নিয়ন্ত্রণে আসবে।