গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনো ছাড় দেয়া হবে না : ডা: শফিক

Printed Edition
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত রক্তাক্ষরে জুলাই চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ডা: শফিকুর রহমান : নয়া দিগন্ত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত রক্তাক্ষরে জুলাই চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ডা: শফিকুর রহমান : নয়া দিগন্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটে জনগণের দেয়া রায় বাস্তবায়নে কোনো ছাড় দেয়া হবে না এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা মেনে নেয়া হবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়িত না হলে জনগণ গণতন্ত্র ও নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা হারাবে এবং সরকারকে ধিক্কার দেবে।

গতকাল রোববার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজিত ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

ডা: শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, সরকার স্বাধীন বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন চায় না। সরকার অতীতের “ফ্যাসিবাদী” কাঠামো বহাল রাখতে চায় বলেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনীহা দেখাচ্ছে। তবে তারা জনগণের দেয়া রায় বাস্তবায়ন করেই ছাড়বে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, জনগণের দেয়া রায়কে অপমান করার সুযোগ কাউকে দেয়া হবে না। সংসদে দাবি আদায় সম্ভব হলে তা স্বাগত জানানো হবে। অন্যথায় রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে।

বিরোধীদলীয় নেতা আরো বলেন, সরকার আবার স্বৈরশাসকের ভাষায় কথা বলছে এবং তাদের সমর্থকেরা মানুষের সম্মান নিয়ে খেলছে। তিনি দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর গণরুম বা গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরতে দেয়া হবে না এবং কেউ তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক অপচর্চা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি বলেও মন্তব্য করেন ডা: শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় এখনো বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। “আমরা চুপচাপ আছি বলে মনে করবেন না যে ঘুমিয়ে গেছি।

যুবসমাজের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গঠনে জীবনের বাকি সময় উৎসর্গ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে জামায়াত আমির বলেন, জনগণের স্বার্থের সাথে কোনো আপস করা হবে না এবং দেশীয় কিংবা আন্তর্জাতিক কোনো অপশক্তির কাছেও মাথা নত করা হবে না।

অনুষ্ঠানে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নেতা মো: মোবারক হোসাইন, অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, মুহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খানসহ জামায়াত, ছাত্রশিবির ও ডাকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে ডা: শফিকুর রহমান ডাকসু নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন। পরে তিনি ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারত করেন।

এরদোগানের উদ্দেশে ডা: শফিকুর রহমানের শুভেচ্ছাপত্র :তুর্কি রাষ্ট্রদূতের কাছে হস্তান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগানের উদ্দেশে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান এমপির লেখা চিঠি ‘খবঃঃবৎ ড়ভ ঝড়ষরফধৎরঃু ধহফ ঈড়সসবহফধঃরড়হ’ বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস শেনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গতকাল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার ঢাকায় অবস্থিত তুরস্ক দূতাবাসে গিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষে এ চিঠি তুলে দেন।

চিঠিতে ডা: শফিকুর রহমান ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই তুরস্কে সংঘটিত ব্যর্থ অভ্যুত্থানচেষ্টার সময় প্রেসিডেন্ট এরদোগানের দৃঢ় ও সাহসী নেতৃত্ব, তুর্কি জনগণের ঐক্য, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাদের অবিস্মরণীয় ভূমিকার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সংহতি প্রকাশ করেন। একই সাথে তিনি প্রযুক্তি, অর্থনীতি, আত্মনির্ভরশীলতা, শিল্পোন্নয়ন এবং মুসলিম বিশ্বের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা প্রতিষ্ঠায় প্রেসিডেন্ট এরদোগানের নেতৃত্বে তুরস্কের অগ্রগতির প্রশংসা করেন। চিঠিতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের বিদ্যমান ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করা হয়।

চিঠি হস্তান্তরের পর তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মিয়া গোলাম পরওয়ারকে তুরস্ক দূতাবাসে স্থাপিত ১৫ জুলাইয়ের গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্য দিবস উপলক্ষে নির্মিত আলোকচিত্র গ্যালারি ঘুরে দেখান। এ সময় তিনি ২০১৬ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানচেষ্টার সময়কার বিভিন্ন ঐতিহাসিক মুহূর্ত, তুর্কি জনগণের প্রতিরোধ এবং গণতন্ত্র রক্ষায় তাদের আত্মত্যাগের নানা দিক তুলে ধরেন।

এ সময় জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সদস্য আলী আহসান মাবরুর উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় এবং ভ্রাতৃপ্রতিম দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো সম্প্রসারিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।