ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রেজাউল করিমের পদত্যাগ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার পদত্যাগ করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির এবারের নির্বাচনে সম্পাদক পদে প্রার্থী হিসেবে প্রতিযোগিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে ২৮ এপ্রিল পদত্যাগপত্র দিয়েছেন তিনি। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রেজাউল করিম খন্দকার আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। এর পর থেকে তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় জানায়, গত ২৮ এপ্রিল তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় তার পদত্যাগপত্রটি সলিসিটর কার্যালয়ে পাঠায়। সলিসিটর কার্যালয় থেকে তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তবে বিষয়টি জানা যায় রোববার।

রেজাউল করিম খন্দকার পদত্যাগের বিষয়টি জানিয়ে গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি সমিতির নির্বাচনে সম্পাদক পদে প্রার্থী হিসেবে গত ২৮ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলাম। ওই দিনই সিদ্ধান্ত নিই যে, নির্বাচন করলে সরকারি দায়িত্বে থাকব না। কারণ, দুই সপ্তাহ আমি নির্বাচনের প্রচারণা চালাব। ওই সময়টায় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করে সরকারি বেতন নেয়াটা নৈতিকভাবে ঠিক হবে না। তাই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

দায়িত্বে থেকেও নির্বাচন করা যেত কি না এমন প্রশ্নের জবাবে রেজাউল করিম খন্দকার বলেন, ‘অবশ্যই করা যেত। আইনগতভাবে সরকারি দায়িত্বে থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা নেই। তবে আমার সংগঠন এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেছি যে, সরকারি পদে থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়াটা যথার্থ হবে না।

এরই মধ্যে সমিতির নির্বাচনে সম্পাদক পদে প্রার্থী হিসেবে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সবুজ প্যানেল থেকে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ঢাকা আইনজীবী সমিতির এবারের নির্বাচনে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদ ‘সবুজ প্যানেল’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

আইনজীবীদের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (২০২৬-২৭) দুই দিনব্যাপী নির্বাচন ১৩ ও ১৪ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গতকাল রোববার ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া দুই সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ২ এপ্রিল পদত্যাগ করেন। তারা হলেন মুহা: মুজাহিদুল ইসলাম ও আহমদ মুসাননা চৌধুরী।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ পাওয়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো: আবুল হাসানের নিয়োগ বাতিল করে তাকে ওই দায়িত্ব থেকে ৬ এপ্রিল অব্যাহতি দেয়া হয়। তার বিরুদ্ধে একজন বিচারপ্রার্থীর কাছ থেকে তিন কোটি ২০ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে অ্যাটর্নি জেনারেল মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল সেদিন জানিয়েছেন।

দুই সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের (এএজি) পদত্যাগপত্র ও একজনের নিয়োগ বাতিলের আগ পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে এএজির সংখ্যা ছিল ২৩০। এক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগের আগ পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের সংখ্যা ১০৩।