চট্টগ্রাম বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত : জামায়াত সমর্থকদের বর্জন

সাংবাদিকদের মারধর

Printed Edition

চট্টগ্রাম ব্যুরো

নানা বিতর্ক, অভিযোগ ও বর্জনের মধ্যেই চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে সমিতি ভবনের অডিটোরিয়ামে ভোট গ্রহণ হয়। এবার নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত আইনজীবীরা। নির্বাচন চলাকালে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। এতে চ্যানেল ওয়ানের দুইজন সংবাদকর্মী আহত হন।

নির্বাচন কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট মো: সেলিম উদ্দিন জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করেছেন। এ দিকে ভোট বর্জনের বিষয়ে জামায়াত সমর্থিত চট্টগ্রাম ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুল আলম বলেন, ২০২৬ সালের সমিতির নির্বাচনে বৈধ প্রার্থী তালিকায় থাকা আমাদের ১২ জন প্রার্থীও নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা আগেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলাম। কারণ বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিরপেতা হারিয়েছে। একটি পরে এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদে আমরা গেল ৫ মে থেকে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ দিদার উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির ১৩৩ বছরের ইতিহাসে কখনো ভোটবিহীন বা অটো কমিটি গঠনের নজির নেই। অতীতেও এমনকি করোনাকালেও, সমিতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে; কিন্তু গেল বছরের ধারাবাহিকতায় এবারো নির্বাচন কমিশন ‘পাতানো ও একতরফা’ ভোট করছে। তাই সাধারণ আইনজীবীরাও ভোট বর্জন করেছেন। তিনি আরো বলেন, এই পাতানো নির্বাচনের কারণে সমিতির গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য, ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতার পরিবেশ তিগ্রস্ত হয়েছে। অন্য দিকে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের নেতা ও সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ বলেন, অল্প কয়েকজন নিজেদের অনুগত ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করে একতরফাভাবে কমিটি ঘোষণা করেছে। নির্বাচনে অংশ নিতে আমাদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহেও বাধা দেয়া হয়েছে। তাই আমরা নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়েছি। সাধারণ আইনজীবীরাও নির্বাচন বর্জন করেছে।

সাংবাদিকদের ওপর হামলা : এ দিকে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনসংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে চ্যানেল ওয়ানের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান শাহনেওয়াজ রিটন ও ক্যামেরাপার্সন অমিত দাসের ওপর আইনজীবীদের একাংশ বর্বরোচিত হামলা ও শারীরিক নির্যাতন চালায়। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চট্টগ্রাম টেলিভিশন রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক (সিটিআরএন)।