তীব্র গরমে ঘাম এবং আর্দ্রতার কারণে মাথার ত্বকে ছত্রাক বা ফাঙ্গাস জন্ম নিতে পারে। ঘাম যখন চুলের গোড়ায় বসে শুকিয়ে যায়, তখন সেখানে ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তারের আদর্শ পরিবেশ তৈরি হয়। আর এই ছত্রাক একবার বংশবিস্তার করতে শুরু করলে অচিরেই মুঠো মুঠো চুল উঠতে শুরু করবে মাথা থেকে। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রেই এটা ঘটে থাকে।
এ থেকে রক্ষার কী উপায়?
ঘরোয়া কিছু টেকনিক ফলো করতে পারেন। ১. মাথার ত্বকের এই ইনফেকশন দূর করতে নিম পাতার ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। নিমের অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণাগুণ সংক্রমণের হাত থেকে চুলকে রক্ষা করে। এক মুঠো নিম পাতা পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি ঠাণ্ডা করে শ্যাম্পুর পর মাথা ধুয়ে নিলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। ২. ছত্রাকের সংক্রমণ রুখতে এবং খুশকি দূর করতে আপেল সাইডার ভিনেগার দারুণ কাজ দেয়। এটি মাথার ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখতে সরাসরি সাহায্য করে। এক কাপ পানিতে দুই টেবিল চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে স্নানের শেষ ধাপে এটি দিয়ে মাথা ধুয়ে নিন। ৩. প্রাকৃতিক অ্যান্টি-সেপটিক হিসেবে টি-ট্রি অয়েলের কার্যকারিতা অতুলনীয়। নারকেল তেলের সাথে ২-৩ ফোঁটা টি-ট্রি অয়েল মিশিয়ে আক্রান্ত জায়গাটিতে ভালো করে ম্যাসাজ করুন। এটি মাথার ত্বকের গভীরে গিয়ে ছত্রাক নষ্ট করতে সরাসরি সাহায্য করে। টি ট্রি অয়েল একটি এসেনশিয়াল অয়েল। এটি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফাঙ্গাল, অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদানে ভরপুর। ৪ . লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড এবং আদার অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান ছত্রাক দূর করতে অন্যতম সেরা ঘরোয়া উপায়। সমপরিমাণ লেবুর রস ও আদার রস একসাথে মিশিয়ে মাথায় মেখে নিন। মিনিট ১৫ পর পরিষ্কার পানিতে মাথা ধুয়ে ফেললে তফাতটা নিজেই বুঝতে পারবেন। ৫. প্রাকৃতিক চিকিৎসার পাশাপাশি এই গরমে জীবনযাত্রাতেও কিছু জরুরি পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। গরম থেকে ফিরেই কখনও ভেজা চুল বাঁধবেন না, এতে ফাঙ্গাস আরো দ্রুত ছড়ায়। অন্যের চিরুনি, তোয়ালে বা টুপি ব্যবহার করা থেকে এই সময়ে পুরোপুরি বিরত থাকুন। ৬. গরমে বাইরে থেকে ফিরে ঘাম শুকানোর পর অবশ্যই পরিষ্কার পানিতে মাথা ধুয়ে নেয়া অভ্যাস করুন।
ঘরোয়া এই পদ্ধতিগুলো নিয়মিত অনুসরণ করলে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই মাথার ত্বকের ছত্রাক সংক্রমণ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তবে সমস্যা গুরুতর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ইন্টারনেট।



