৬ জেলায় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ১২ জনের

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

দেশের ছয় জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সুনামগঞ্জ, রংপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে পৃথক ঘটনায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে সুনামগঞ্জে। এ ছাড়া রংপুর ও ময়মনসিংহে দুইজন করে, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে একজন করে মারা গেছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ১২ জন।

সুনামগঞ্জে ৫ জনের মৃত্যু : জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলায় বজ্রপাতে এক কিশোরসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত চারজন। গতকাল দুপুরে এ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ধর্মপাশার হাবিবুর রহমান (৩০), রহমত উল্লাহ (১৫), জামালগঞ্জের নূর জামাল (২৬), তাহিরপুরে আবুল কালাম (২৫) ও দিরাই উপজেলার লিটন মিয়া (৩০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে চার উপজেলায় হঠাৎ আকাশ কালো করে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। তখন তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আবুল কালাম আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, বজ্রপাতে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ দিকে জামালগঞ্জের পাগনার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে নূর জামাল (২৬) নামে এক কৃষক মারা গেছেন। নিহত জামাল উপজেলার চানপুর গ্রামের আমির আলীর ছেলে। জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি বন্দে আলী বলেন, পাগনার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়াও আরো একজন আহত হয়েছেন।

পাশাপাশি একই সময়ে ধর্মপাশার টগার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে হাবিবুর রহমান নামে আরেক কৃষক আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ধর্মপাশা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। নিহত হাবিবুর উপজেলার পাইকরহাটি ইউনিয়নের বড়ই হাটি গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে।

এ ছাড়া একই উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামে বাড়ির পাশে ধান শুকাতে গিয়ে বজ্রপাতে রহমত উল্লাহ (১৫) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদ উল্লাহ বলেন, হাওরে ধান কাটা ও শুকাতে গিয়ে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অপর দিকে জেলার দিরাই উপজেলার কালিয়াগোটা (আতরার) হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে কৃষক লিটন মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: প্রশান্ত দাস তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ময়মনসিংহে ২ জনের মৃত্যু : ময়মনসিংহে বজ্রপাতে কৃষকসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বেলা ২টার দিকে গৌরীপুর উপজেলার বায়রাউড়া ও গফরগাঁও উপজেলার ধাইরগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- গৌরীপুর উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামের ওলি মিয়ার ছেলে রহমত আলী উজ্জ্বল (৩০) এবং গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানাধীন উস্থি ইউনিয়নের ধাইরগাঁও গ্রামের প্রয়াত সেকান্দর আলী খানের ছেলে মমতাজ আলী খান (৫৮)।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: কামরুল হাসান বলেন, রহমত আলী উজ্জ্বল ধান কাটতে পাশের বায়রাউড়া গ্রামে যান। এ সময় বজ্রাঘাত হলে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

অপর দিকে গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, মমতাজ আলী খান জোহরের নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে হঠাৎ বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রংপুরে ২ জনের মৃত্যু : জেলার মিঠাপুকুর উপজেলায় বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো পাঁচজন। এ সময় আহত হয়েছেন আরো অন্তত আটজন। গতকাল সকালে উপজেলার বড় হজরতপুর এলাকার সখিপুরে এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- বড় হজরতপুর এলাকার তালেব উদ্দিন (৬০) এবং মাছ ধরতে আসা মিলন মিয়া (৪০)।

স্থানীয়রা জানান, সকালে বৃষ্টির আগে একটি পুকুরে জেলেরা মাছ ধরছিলেন। সেই দৃশ্য দেখতে পাড়ে ভিড় করেন ১০ থেকে ১২ জন গ্রামবাসী। আর পাশের আরেকটি পুকুরে পানা কাটছিলেন একজন। হঠাৎ করে বৃষ্টি শুরু হলে বিকট শব্দে বজ্রপাত ঘটে। এতে অনেকে গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আহতদের মধ্যে পাঁচজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

নেত্রকোনায় কৃষকের মৃত্যু : জেলার আটপাড়া উপজেলায় হাওরে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আলতু মিয়া (৬৫) নামে এক কৃষক মারা গেছেন। গতকাল দুপুরে উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের সামনের মেষির হাওরে এ ঘটনা ঘটে। আলতু মিয়া ওই গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে।

স্থানীয়রা ও পুলিশ জানায়, বেলা ১টার দিকে গ্রামের সামনের মেষি হাওরে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান আলু মিয়া। কিছুক্ষণ পর আকাশ অন্ধকার করে বৃষ্টিসহ বজ্রপাত শুরু হয়। বজ্রপাত ও বৃষ্টি শেষে পরে স্থানীয়রা হাওরে গিয়ে আলতু মিয়ার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

কিশোরগঞ্জে প্রাণ গেল কৃষকের : জেলার করিমগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে হলুদ মিয়া (৩৭) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বেলা ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত হলুদ মিয়া উপজেলার ৯ নম্বর জয়কা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কলাবাগ গ্রামের বাসিন্দা। বাবার নাম নুরুল ইসলাম।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে বড় হাওরে ধান কাটার সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে গুরুতর আহত হন হলুদ মিয়া। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে গেলে মারা যান তিনি।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: এমরানুল কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হবিগঞ্জে হাওরে কৃষকের মৃত্যু : হাওরে ধান কাটতে গিয়ে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে বজ্রপাতে সুনাম উদ্দিন (৬০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরে উপজেলার বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের বিবিয়ানা নদীর তীরবর্তী মমিনা হাওরে এ ঘটনা ঘটে। মৃত সুনাম উদ্দিন ওই ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের মৃত সুন্দর আলীর ছেলে।

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মোনায়েম মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকালে জীবিকার তাগিদে সুনাম উদ্দিন মমিনা হাওরে ধান কাটতে যান। দুপুরের দিকে বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।