সাক্ষাৎকার : আবু রুশদ

একটি স্পষ্ট ও স্থায়ী নিরাপত্তা কাঠামোর অভাব বাংলাদেশের প্রধান দুর্বলতা

বাংলাদেশের প্রধান দুর্বলতা হলো একটি স্পষ্ট ও স্থায়ী নিরাপত্তা কাঠামোর অভাব। এ কারণে অবস্থানগত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তা কৌশলগতভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় বিভক্তি ও নীতির অস্থিরতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দুর্বলতা সৃষ্টি করছে।

বিশেষ সংবাদদাতা
Printed Edition

দেশের বিশিষ্ট নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রুশদ এর মতে, বাংলাদেশের প্রধান দুর্বলতা হলো একটি স্পষ্ট ও স্থায়ী নিরাপত্তা কাঠামোর অভাব। এ কারণে অবস্থানগত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তা কৌশলগতভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় বিভক্তি ও নীতির অস্থিরতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দুর্বলতা সৃষ্টি করছে।

নয়া দিগন্তের সাথে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জনাব আবু রুশদ এই মত ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের নিরাপত্তা নীতি, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি ও বার্মা অ্যাক্টের বিভিন্ন দিক নিয়ে তিনি কথা বলেন। তিনি মনে করেন, মিয়ানমার এখন যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। বর্তমান বিশ্বে কোনো সঙ্কটই বিচ্ছিন্ন নয়। আঞ্চলিক রাজনীতি, বৈশ্বিক শক্তি ও অভ্যন্তরীণ নীতি- সব একে-অপরের সাথে জড়িত। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দু হলো “বিশ্বাসের সঙ্কট”। আর বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হলো কৌশলগত বাস্তববাদ ও আঞ্চলিক সহযোগিতা। নিচে তার সাক্ষাৎকারের বিস্তারিত-

প্রশ্ন : স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও- বাংলাদেশের কি কোনো সুস্পষ্ট জাতীয় নিরাপত্তা নীতি আছে?

আবু রুশদ : বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশ এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ, লিখিত এবং ধারাবাহিক জাতীয় নিরাপত্তা নীতি প্রণয়ন করতে পারেনি। ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান কিছু প্রাথমিক উদ্যোগ নিলেও সেটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। এর ফলে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে তার মধ্যে সরকার পরিবর্তনের সাথে নীতির দিক পরিবর্তন; পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা নীতির মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের বদলে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দেখা যায়।

নিরাপত্তা বলতে শুধু সামরিক শক্তি নয়; এর মধ্যে রয়েছে- অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা (উগ্রবাদ, মাদক, সামাজিক অস্থিরতা); সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা। এই বিস্তৃত কাঠামোতে চিন্তা না করার কারণেই বাংলাদেশ এখনো একটি সুসংহত নিরাপত্তা ধারণা গড়ে তুলতে পারেনি।

প্রশ্ন : অন্য দেশগুলো- বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলো এই ক্ষেত্রে কীভাবে এগিয়ে?

আবু রুশদ : ভারত, পাকিস্তান, এমনকি ছোট রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা- সবাই তাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে প্রাতিষ্ঠানিক করেছে। তাদের কিছু বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট- “থ্রেট পারসেপশন (হুমকির ধরন নির্ধারণ); নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা নীতি ও সামরিক কৌশল এবং সরকার বদলালেও মূল নীতির ধারাবাহিকতা। উদাহরণ হিসেবে- ভারত একই সাথে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও অন্যান্য শক্তির সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে; পাকিস্তান চীন ও যুক্তরাষ্ট্র- দুই পক্ষের সাথেই কৌশলগত ভারসাম্য রাখে। অর্থাৎ তারা “মাল্টি-অ্যালাইনমেন্ট” কৌশল অনুসরণ করে, যা বাংলাদেশে অনুপস্থিত।

প্রশ্ন : র‌্যাব গঠন ও সামরিক বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

আবু রুশদ : র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‌্যাব গঠিত হয়েছিল একটি নিরাপত্তা সঙ্কটের প্রেক্ষাপটে, কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এর সমস্যাগুলো কয়েকটি স্তরে- সামরিকীকরণ : বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সামরিক বাহিনীর সদস্য যুক্ত হওয়া; পেশাদারিত্বের ক্ষতি : সেনাবাহিনীর অফিসাররা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া; রাজনৈতিক ব্যবহার : নিরাপত্তা বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার ইত্যাদি। এর ফলে একটি “এলিট ফোর্স” ধীরে ধীরে বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণœ করে।

প্রশ্ন : তাহলে বাংলাদেশের নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় হুমকি কী- বাহ্যিক না অভ্যন্তরীণ?

আবু রুশদ : সবচেয়ে বড় হুমকি হলো অভ্যন্তরীণ নীতিগত দুর্বলতা ও বিভক্তি। কারণ-পররাষ্ট্রনীতি স্থির নয়; রাজনৈতিক ঐকমত্য নেই এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থার সঙ্কট রয়েছে- এই অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা থেকেই বাহ্যিক ঝুঁকি বাড়ে। অর্থাৎ, “ইন্টারনাল ডিসঅর্ডার থেকে আসে এক্সটারনাল ভালনারেবিলিটি।”

প্রশ্ন : শেখ হাসিনার সময় কি একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি দেখা গিয়েছিল?

আবু রুশদ : শেখ হাসিনা সরকারের শুরুতে (২০০৯-এর পর) কিছুটা ভারসাম্য ছিল- ভারত, চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে। কিন্তু সেটি টেকেনি, কারণ নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়নি; সামরিক ও অর্থনৈতিক কৌশলের মধ্যে সমন্বয় ছিল না এবং বাস্তবায়নে ঘাটতি ছিল। উদাহরণ হিসেবে- চীন থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনা হলেও পূর্ণাঙ্গ সামরিক সহযোগিতা গড়ে ওঠেনি। ফলে একটি “অসম্পূর্ণ কৌশল” সৃষ্টি হয়।

প্রশ্ন : দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

আবু রুশদ : বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ জিও-স্ট্র্যাটেজিক চোকপয়েন্ট- বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে। কারণ- এটি ভারত ও মিয়ানমারের সংযোগস্থলে; বঙ্গোপসাগর আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি রুটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বা অস্থিতিশীলতা- দুই ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থাৎ বাংলাদেশ চাইলে “স্ট্যাবিলাইজার” বা “ডিসরাপ্টর”- দুই ভূমিকাই পালন করতে পারে।

প্রশ্ন : রোহিঙ্গা সঙ্কট ও মিয়ানমারের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান কেমন?

আবু রুশদ : বর্তমানে মিয়ানমারের বড় অংশ কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। ফলে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। বাংলাদেশের সীমাবদ্ধতাগুলো- কোনো পক্ষের সাথে কার্যকর কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই; কৌশলগত অবস্থান অস্পষ্ট; অভ্যন্তরীণভাবে বিভ্রান্তিকর প্রস্তাব (যেমন- রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র করা) সক্রিয়। ফলে বাংলাদেশ “স্টেকহোল্ডার” হয়েও “নেগোশিয়েশন টেবিল”-এর বাইরে।

প্রশ্ন : বার্মা অ্যাক্ট কী এবং এর প্রভাব কী হতে পারে?

আবু রুশদ : বার্মা অ্যাক্ট হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৌশলগত আইন, যার লক্ষ্য মিয়ানমারে গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা। মূল বাস্তবতা হলো- এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক পরিকল্পনা, এটি বাস্তবায়ন হবেই এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলো (চীনসহ) এতে পরোক্ষভাবে যুক্ত। বাংলাদেশের জন্য দরকার- বিরোধিতা নয় বরং কৌশলগত সম্পৃক্ততা জরুরি।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের জন্য সার্বিকভাবে করণীয় কী?

আবু রুশদ: ১. একটি লিখিত জাতীয় নিরাপত্তা নীতি প্রণয়ন; ২. পররাষ্ট্রনীতিতে ধারাবাহিকতা ও বাস্তববাদ; ৩. আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার (দক্ষিণ এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক); ৪. নিরাপত্তা বাহিনীর পেশাদারিত্ব বজায় রাখা; এবং ৫. বড় শক্তিগুলোর সাথে “ব্যালান্সিং”কৌশল গ্রহণ করা।

প্রশ্ন : বার্মা অ্যাক্ট কি মিয়ানমারের ভেতরে নতুন কোনো রাষ্ট্র তৈরির ইঙ্গিত দেয়?

আবু রুশদ : না, সরাসরি নতুন রাষ্ট্র তৈরির বিষয় নয়। বরং উদ্দেশ্য হলো মিয়ানমারকে একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামোয় আনা, যেখানে দীর্ঘদিনের সামরিক শাসন, জাতিগত সঙ্ঘাত এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবসান ঘটানো যায়। মিয়ানমার বহু বছর ধরে- সামরিক শাসন; জাতিগত বিদ্রোহ; মানবাধিকার সঙ্কট এবং রোহিঙ্গা নিপীড়ন এর মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক সঙ্কটে রূপ নিয়েছে। তাই এটি আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর জন্য একটি “স্ট্র্যাটেজিক ইস্যু”।

প্রশ্ন : মিয়ানমারে স্থিতিশীলতা আনতে চীনের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

আবু রুশদ : চীনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন ছাড়া মিয়ানমার সঙ্কটের সমাধান প্রায় অসম্ভব। কারণ চীনের গ্যাস পাইপলাইন ও বন্দর প্রকল্প রয়েছে; সীমান্ত বাণিজ্য ও খনিজসম্পদে বড় বিনিয়োগ এবং বিদ্রোহী অঞ্চলগুলোতেও পরোক্ষ প্রভাব। বর্তমানে চীনও স্থিতিশীলতা চায়, কারণ অস্থিরতা তার অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য ঝুঁকি।

প্রশ্ন : এখন নতুন করে “ইৎধাব ইঁৎসধ অপঃ” এর কথা বলা হচ্ছে। এটি আসলে কী?

আবু রুশদ : এটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি আইন- বার্মায় প্রয়োগের মাধ্যমে প্রকৃত জবাবদিহি আনার আইন (ইৎরহমরহম জবধষ অপপড়ঁহঃধনরষরঃু ঠরধ ঊহভড়ৎপবসবহঃ রহ ইঁৎসধ অপঃ)। এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো : সময়সীমা- ২০২৬-২০৩০; লক্ষ্য- জবাবদিহিতা, গণতন্ত্র, স্থিতিশীলতা; আর বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের সব রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাধ্য। অর্থাৎ এটি কেবল কূটনৈতিক উদ্যোগ নয়- এটি একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় কৌশল।

প্রশ্ন : বাংলাদেশ এই প্রক্রিয়ায় কী হারাচ্ছে?

আবু রুশদ : বাংলাদেশ একটি বড় সুযোগ হারাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে- রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানের সুযোগ, আঞ্চলিক কূটনীতিতে অংশগ্রহণ এবং বড় শক্তিগুলোর সাথে সমন্বয়। বাংলাদেশ যদি সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হতো, তাহলে ১৫-১৬ লাখ রোহিঙ্গা সমস্যার একটি কার্যকর সমাধান সম্ভব হতে পারত।

প্রশ্ন : রোহিঙ্গা সঙ্কট কি আরো জটিল হতে পারে?

আবু রুশদ : হ্যাঁ, বরং বলা যায় আরো জটিল হওয়ার ঝুঁকি আছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে রয়েছে- নতুন করে শরণার্থী প্রবাহ, সীমান্তে অস্থিতিশীলতা এবং মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার বিস্তার ঘটার আশঙ্কা। বর্তমানে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কোনো কার্যকর শাসনব্যবস্থা নেই- ফলে সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।

প্রশ্ন : সার্ক কেন ব্যর্থ হলো এবং এখন কি পুনরুজ্জীবন সম্ভব?

আবু রুশদ : দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা-সার্ক কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে, প্রধানত ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বের কারণে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক সঙ্কট (জ্বালানি, খাদ্য, স্বাস্থ্য) বিবেচনায়- সার্ক পুনরুজ্জীবন এখন সময়ের দাবি। এর সম্ভাব্য সুবিধা : জ্বালানি বিনিময়, খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষি ও সার সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক বাজার স্থিতিশীলতা আসতে পারে।

প্রশ্ন : আঞ্চলিক সহযোগিতা না হলে কী ঝুঁকি সৃষ্টি হবে?

আবু রুশদ : দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ ও দরিদ্র অঞ্চলের একটি। যদি সহযোগিতা না বাড়ে- খাদ্যসঙ্কট; জ্বালানি সঙ্কট এবং স্বাস্থ্য ও মানবিক সঙ্কট দেখা দেবে। এক দেশের সঙ্কট অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়বে- যেমন রোহিঙ্গা সঙ্কটে হয়েছে।

প্রশ্ন : ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সঙ্ঘাত কোন দিকে যাচ্ছে?

আবু রুশদ : বর্তমানে সরাসরি সংঘর্ষ কিছুটা কমেছে এবং আলোচনা শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় জড়িত- পাকিস্তান (মধ্যস্থতাকারী), মিসর, তুরস্ক ও সৌদি আরব। অর্থাৎ মুসলিম বিশ্বের একটি সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।

প্রশ্ন : এই সঙ্ঘাতের মূল ইস্যু কী?

আবু রুশদ : মূল ইস্যু হলো- ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কর্মসূচি। ইরান চায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, আর যুক্তরাষ্ট্র চায় এই সক্ষমতা সীমিত করতে। এখানে মূল প্রশ্ন : “ইরান যদি ইউরেনিয়াম ছাড়ে, তার নিরাপত্তার গ্যারান্টি কে দেবে?”

প্রশ্ন : ইউক্রেনের উদাহরণ এখানে কেন গুরুত্বপূর্ণ?

আবু রুশদ : ইউক্রেন পারমাণবিক অস্ত্র ছেড়ে দিয়েছিল মার্কিন গ্যারান্টিতে। কিন্তু পরে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করে এবং যুদ্ধ শুরু হয়। ফলে ইরান সন্দিহান হয়- “গ্যারান্টি কি বাস্তবেই কার্যকর হবে?”

প্রশ্ন : ইরান যুদ্ধে চীন ও রাশিয়ার অবস্থান কী?

আবু রুশদ : চীন সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চায় না, কারণ-জ্বালানি নির্ভরতা, অর্থনৈতিক ঝুঁকি আর বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। রাশিয়াও সরাসরি সঙ্ঘাতে জড়ায়নি, ফলে যুদ্ধ এখনো আঞ্চলিক পর্যায়ে সীমিত।

প্রশ্ন : ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কী পরিবর্তন আসতে পারে?

আবু রুশদ : ইরানে দীর্ঘদিন ধরে একটি ইসলামিক শাসনব্যবস্থা চলছে (১৯৭৯ বিপ্লবের পর থেকে)। সমস্যাগুলো- মত প্রকাশের সীমাবদ্ধতা, মানবাধিকার ইস্যু ও জনঅসন্তোষ। তবে যুদ্ধের সময় জাতীয় ঐক্য কিছুটা বেড়েছে। ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা : নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে এবং যুদ্ধ শেষ হলে- শাসনব্যবস্থায় সংস্কার, নাগরিক স্বাধীনতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন হতে পারে।

প্রশ্ন: যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ভাবমর্যাদা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত?

আবু রুশদ: এই সঙ্ঘাত যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমর্যাদাকে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। দেশটির ভেতরেও প্রতিবাদ হয়েছে, এমনকি ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যেও বিভক্তি দেখা গেছে এবং মানবাধিকার ইস্যুতে সমালোচনা বেড়েছে।