স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘জাতীয় শিক্ষা সংস্কৃতি আন্দোলন’। সংগঠনের আহ্বায়ক মাহমুদ সেলিম ও সদস্যসচিব রুস্তম আলী খোকন এক যৌথ বিবৃতিতে সরকারকে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, বিগত সময়ে শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের সম্মিলিত দাবির মুখেই ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল। ভর্তি বাণিজ্যের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, কোচিং ব্যবসার দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে বৈষম্য ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ দূর করতে এ পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল। লটারি পদ্ধতি বাতিল করার মাধ্যমে জনমতকে চরমভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
নেতারা উল্লেখ করেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে যেকোনো সংস্কার বা পরিবর্তন আনার আগে শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, ছাত্র ও অভিভাবকদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন। তাড়াহুড়ো করে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কে জনমনে ভীতি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
বিবৃতিতে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক প্রহার, জোরপূর্বক পদত্যাগ ও ‘মব ভায়োলেন্সের’ তীব্র সমালোচনা করা হয়। নেতারা বলেন, ওই সময়ে শিক্ষাঙ্গন ট্রমাটাইজড হয়ে পড়েছে। মব জাস্টিসের সাথে জড়িতদের বিচার এবং ভীতিমুক্ত পরিবেশ তৈরি করাই ছিল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক কাজ।
নেতারা ২০১০ সালের শিক্ষানীতিকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আধুনিকায়ন করার দাবি জানান। তারা বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির যে আমূল পরিবর্তন আসছে, তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে অগ্রসর হতে না পারলে বাংলাদেশ আধুনিক শিক্ষাধারা থেকে আরো পিছিয়ে পড়বে। বিবৃতিতে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও বৈষম্যহীন সর্বজনীন বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতি প্রণয়নে জাতীয় ঐকমত্য তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি।



