জাগপার ইফতার মাহফিলে বিরোধীদলীয় নেতা

আসন নয়, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠাই আমাদের ল্য

Printed Edition
রাজধানীর একটি হোটেলে জাগপার ইফতার মাহফিলে বক্তব্য রাখেন ডা: শফিকুর রহমান : নয়া দিগন্ত
রাজধানীর একটি হোটেলে জাগপার ইফতার মাহফিলে বক্তব্য রাখেন ডা: শফিকুর রহমান : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনীতি থেকে ‘প্রতিহিংসার বিষ’ এবং ‘দুর্নীতির ক্যান্সার’ দূর করতে না পারলে গত ৫৫ বছরের মতো ভবিষ্যতেও দেশ কাক্সিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা কেবল আসনের জন্য রাজনীতি করি না, জনগণের অধিকার কায়েমের জন্য রাজনীতি করি।

গতকাল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। মরহুম শফিউল আলম প্রধানের হাতেগড়া সংগঠন জাগপার উদ্যোগে আয়োজিত এ ইফতার মাহফিলে দলটির ও জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যের শুরুতে ডা: শফিকুর রহমান পবিত্র রমজানের রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের তাৎপর্য তুলে ধরেন। ১১ দলীয় জোটের ঐক্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমরা জোটগতভাবে যখন বসেছি, তখন একটি কথাই বলেছি আমরা শুধু আসনের জন্য আসিনি, জনগণের ভোটাধিকার ও অধিকার কায়েমের জন্য এসেছি। আমরা কথা দিচ্ছি, প্রিয় বাংলাদেশের জনগণের সাথে আমরা কখনো বেইমানি করব না। সস্তা কোনো সুযোগ-সুবিধা আমাদের পথভ্রষ্ট করতে পারবে না।

সম্প্রতি ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, দীর্ঘ ৫৪ বছরের বঞ্চনার পর আমাদের যুবসমাজের নেতৃত্বে যে পরিবর্তন এসেছে, সেই যুবসমাজকে আমরা চিরতরে বুকে ধারণ করে রাখব। তাদের আকাক্সা বাস্তবায়নে আমাদের কাজ করে যেতে হবে। তাদের একটাই স্লোগান ছিল, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ (আমরা সুবিচার চাই)। আমরাও সর্বক্ষেত্রে সুবিচার চাই। স্বজনপ্রীতি, দলপ্রীতি বা গোষ্ঠীপ্রীতি আমরা আর দেখতে চাই না।

ঐতিহাসিক মক্কা বিজয়ের দিন (২০ রমজান) উপলক্ষে তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে যেমন বিনা রক্তপাতে সত্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, আমাদেরও সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে ইতিহাস কাউকে ছেড়ে কথা বলে না।

দেশের চলমান সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি স্বাধীনতাপরবর্তী ‘আবার তোরা মানুষ হ’ চলচ্চিত্রের কথা স্মরণ করেন। তিনি আক্ষেপ নিয়ে বলেন, আজকেও দেশের একজন বরেণ্য ব্যক্তি আক্ষেপ করে বলেছেন, আমরা কবে মানুষ হবো? সত্যিই আমাদের মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করতে হবে। শিক্ষাঙ্গন থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে যে অমানবিকতা, তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

বিশ্বব্যাপী নিপীড়িত মানবতার কথা উল্লেখ করে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, আজ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলমানরা যুদ্ধের কারণে চরম অস্থিরতায় দিন পার করছে। অনেকেই হয়তো ইফতার ও সাহরিতে সামান্য খাবারটুকুও পাচ্ছে না। মানবতার ওপর যারা জুলুম করছে, আমরা তাদের তীব্র নিন্দা জানাই। যেখানেই মানবতা লঙ্ঘিত হবে, আমরা সেখানেই মানবতার পক্ষে দাঁড়াব।

ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দলের আমির। তিনি বলেন, আমাদের লড়াই কোনো নির্দিষ্ট দলের বিজয়ের জন্য নয়, এই লড়াই হবে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়ের লড়াই। পরিশেষে ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য তিনি জাগপার নেতাদের ধন্যবাদ জানান এবং দেশের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

জাগপার সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেনের পরিচালনায় বক্তৃতা করেন, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অব: অলি আহমদ। উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা ও পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদিক হাক্কানী, ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন মো: ফারুক রহমান, গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান, নেক্সাস ডিফেন্স অব জাস্টিসের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার হাসান নাসির, হাসিনার আমলে গুম হওয়া কর্নেল হাসিনুর রহমান, জনতার অধিকার পার্টির চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম, জাগপার প্রেসিডিয়াম সদস্য আসাদুর রহমান খান, হাজী মো: হাসমত উল্লাহ, ভিপি মজিবুর রহমান প্রমুখ।

বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহের উদ্যোগ নিতে বিরোধীদলীয় নেতার আহ্বান

জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান। গতকাল তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে লেখেন, গতকাল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় জ্বালানি তেল নিতে মানুষের যে দুর্ভোগের ছবি দেখা যাচ্ছে- কিলোমিটারের পর কিলোমিটার লাইন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপো- তা সত্যিই খুব কষ্টের। রোজা রেখে অনেক মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, কারো গাড়ির তেল একেবারে শেষ হয়ে গেছে। এই সঙ্কট শুধু সাধারণ মানুষের যাতায়াতেই নয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানার ওপরও প্রভাব ফেলছে। সামনে ঈদের যাত্রা শুরু হবে- এই পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে মানুষের ঈদযাত্রা আরো কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি লেখেন, আমরা এর আগেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলাম দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহের উদ্যোগ নিতে। কিন্তু পরিস্থিতি দিন দিন আরো খারাপ হচ্ছে। তাই সরকারের প্রতি আবারো অনুরোধ থাকবে- দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদার ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সাথে যোগাযোগ করে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক।

একই সাথে দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, এই সময়ে ধৈর্য ধরুন এবং অপ্রয়োজনে জ্বালানি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই সঙ্কট থেকে উত্তরণের তাওফিক দিন।