সাতক্ষীরা সংবাদদাতা
কফিনবন্দী হয়ে ২৭ দিন পর নিজভূমি সাতক্ষীরায় ফিরলেন লেবাননে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশী শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলাম। গতকাল তাদের লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। এ সময় তাদের বুকফাটা কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে আশপাশের পরিবেশ।
এর আগে শনিবার (৬ জুন) গভীর রাতে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় দুই প্রবাসীর লাশ। সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মিঠু জানান, বিমানবন্দরে সরকারের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে লাশ গ্রহণ করেন স্বজনরা। রোববার সকালে তাদের লাশ গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছায়। জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে নিজ নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
তিনি বলেন, এই মৃত্যুতে সবচেয়ে বড় সঙ্কটে পড়েছে শফিকুল ইসলামের পরিবার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী এবং দুই কন্যা সন্তানকে রেখে চিরবিদায় নেয়া শফিকুলের অনুপস্থিতিতে পরিবারটি এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বড় মেয়ে মৌ আক্তার বিজ্ঞান বিভাগের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী।
অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মিঠু বলেন, পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এবং দুই মেয়ের জীবন গঠনে সরকারের বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন।
আশাশুনির কাদাকাটি গ্রামেও একই চিত্র। মাত্র ২০ বছর বয়সে পরিবারের স্বপ্ন বুকে নিয়ে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন নাহিদুল ইসলাম। স্বজনদের আশা ছিল বিদেশে কাজ করে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই ফিরেন কফিনবন্দী হয়ে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার, খুলনার সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো: খালেদুর রহমান জানান, লাশ দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরেই দাফন-কাফন বাবদ ৩৫ হাজার টাকার চেক দেয়া হয়েছে। বৈধভাবে বিদেশগামী কর্মীদের জন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে তিন লাখ টাকা এবং জীবনবীমা বাবদ ১০ লাখ টাকা দেয়া হবে। ফলে নিহত শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলাম এবং আহত প্রবাসী শুভজিতের পরিবার নিয়ম অনুযায়ী মোট ১৩ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে।
এদিকে দুই প্রবাসীর লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর পর শেষবারের মতো তাদের একনজর দেখতে ভিড় করেন আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা। স্বজনদের কান্না আর শোকে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা সরকারের কাছে দ্রুত সব ধরনের সহায়তা এবং নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত ১১ মে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ে অঞ্চলের জিবদিন এলাকায় নিজ বাসভবনে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় নিহত হন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম (৪০) এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের নাহিদুল ইসলাম (২০)। প্রায় এক মাসের বেশি সময় পর সরকারি ব্যবস্থাপনায় তাদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।



