ক্রীড়া প্রতিবেদক
হাভিয়ার কাবরেরা পর্ব শেষ। চলছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের জন্য নতুন বিদেশী কোচের সন্ধান। বিদেশী কোচদের সংক্ষিপ্ত কোচের তালিকা এখন ১০ জনে আটকা। এখান থেকে জুমে ইন্টারভিড নেয়া শেষে চূড়ান্ত করা হবে জামাল ভূঁইয়া ও হামজা চৌধুরীদের নতুন হেড কোচের নাম। স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ার কাবরেরা সাড়ে ১৩ হাজার ডলার বেতন নিতেন। আর বাফুফের সর্বোচ্চ বাজেট ১৫ হাজার ডলার। অথচ ১০ জনের তালিকা নিয়ে বাফুফে এখন কাজ করছে এদের কারো বেতনই ১৫ হাজার ডলারের নিচে নয়। বাফুফে সদস্য এবং টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম হিলটন জানান, ‘যারা আমাদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন এদের কারো দাবি ৩৫ হাজার ডলার। আরো ১৫ হাজার ডলার। ২০, ২৫, ২৬ ও ৩০ হাজার ডলারও বেতনের চাহিদা আছে।’ বাংলাদেশের ফুটবল এখন যে উচ্চতায় পৌঁছেছে তাতে ভালো মানের কোচের বিকল্প নেই। আবার ভালো মানের কোচ আনতে যে টাকা প্রয়োজন সেটাও নেই বাফুফের। তাই গতকাল ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সাথে দেখা করেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। সেখানে কোচের বেতনের বিষয়ে সহায়তা চাওয়া হয়েছে সরকারের কাছে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীও সহায়তার আশ^াস দিয়েছেন বাফুফে সভাপতিকে। এই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন বাফুফের সহসভাপতি ওয়াহেদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি ও সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার।
কোচ ছাড়াও বাফুফের সামনে আরো দুটি ইস্যু আছে। এর একটি হলো নিজম্ব একটি স্টেডিয়াম। অপরটি কক্সবাজারে ফিফার অর্থায়নে একসিলেন্স সেন্টার নির্মাণ। ইতোমধ্যে ফুটবল ফেডারেশনকে তিনটি স্টেডিয়াম দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এর একটি কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে শুধুই ফুটবল হয়। বাকি দু’টি ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম ও সিলেট স্টেডিয়াম। জাতীয় স্টেডিয়াম অ্যাথলেটিক্সের সাথে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে হয়। সিলেট স্টেডিয়ামেও ফুটবলের সাথে অন্য খেলা হয়। তবে বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য এখন একক এবং নিজস্ব একটি আন্তর্জাতিক মানের ফিফা স্বীকৃত স্টেডিয়াম প্রয়োজন। তাই তারা পূর্বাচলে ক্রিকেট স্টেডিয়াম ন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ডের পাশে ৩৮ একর জমিতে নিজস্ব স্টেডিয়াম করতে চায়। এ জন্য সরকারের দারস্থ হয়েছে বাফুফে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীও এ বিষয়ে বাফুফেকে সহায়তা করার আশ^াস দিয়েছেন। সাথে বাফুফে কর্মকর্তাদের পরামর্শ দেন প্রস্তাবিত জমিগুলো পরিদর্শন করার জন্য। আমিনুল হক জানান, ঢাকার আশেপাশের কয়েকটি ভেনুর কথা বলা হয়েছে। আমি বলেছি আপনারা ভেনুগুলো পরিদর্শন করে আসুন। এরপর আপনাদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে সামনে এগোনো যাবে।
কক্সবাজারে ফিফা একসিল্যান্স সেন্টার নির্মাণে বাফুফের জমি লাগবে। সেই জমি কিনতে বাফুফেকে ৮ কোটি টাকা দিতে হবে। অথচ আগে নামমাত্র মূল্যে এভাবে জমি কেনা যেত। পরে সেই আইন বাতিল হয়। এখন বাফুফেকে যদি ৮ কোটি টাকাই ব্যয় করতে হয় জমি কেনা বাবদ তাহলে বিশাল আর্থিক ক্ষতি। তাই এই অর্থ মওকুফে সরকারের সহায়তা চেয়েছে বাফুফে। এই ক্ষেত্রেও আমিনুল হকের সহযোগিতার আশ^াস। উল্লেখ্য, এই জমি এখনো বাফুফে বুঝে না পাওয়ায় ফিফাও টাকা দিচ্ছে না। বাফুফে বারবার অনুরোধ করে সময় বাড়িয়ে নিচ্ছে।
বাফুফের ন্যাশনাল টিমস কমিটির আগের সভা শেষে জানানো হয়েছিল তিন দিনের মধ্যেই সংক্ষিপ্ত তালিকার ১০ কোচ থেকে জাতীয় দলের কোচ চূড়ান্ত করা হবে। তবে গতকাল তিন দিন পার হলেও কোচ চূড়ান্ত হয়নি। জানা গেছে গতকাল বিকেল পর্যন্ত মাত্র তিনজন কোচের সাক্ষাৎকার নেয়া সম্ভব হয়েছে। বাফুফে সভাপতি এবং ন্যাশনাল টিমস কমিটির চেয়ারম্যান তাবিথ আউয়ালই নিজে এই সাক্ষাৎকারগুলো নিচ্ছেন। আরো সাতজন কোচের সাক্ষাৎকার নেয়া বাকি। ফলে কোচের বিষয়টি ফয়সালা করতে আরো দুই এক দিন লেগে যাবে। হিলটন জানান, কোচের কাজের অভিজ্ঞতা, প্রোলাইসেন্স, কোথায় কোথায় চাকরি করেছে এই তথ্যগুলোতেই প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে।



