ভালো ফলাফলের ট্রফিগুলোও এখন রামিসার স্মৃতি

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর পল্লবীতে ভাড়া বাসায় বাবা, মা ও বড় বোনের সাথে থাকত সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তার। রামিসাদের ঘরে এখন কেবল শোভা পাচ্ছে তার ভালো ফলাফলের জন্য স্কুল থেকে পাওয়া নানামুখী ট্রফি এখন স্মৃতি। কিন্তু যার ট্রফি, সেই রামিসা আর নেই। হত্যার শিকার রামিসার মায়ের ভাষ্য, মেয়েকে যখন নির্যাতন করা হয় তখন তার চিৎকার শুনতে পান তিনি। কিন্তু কল্পনায়ও ভাবতে পারেননি তার নিজের মেয়েই চিৎকার করছে। যখন বুঝতে পারেন মেয়ে নিখোঁজ, তখন খোঁজাখুঁজি শুরু করলেও ততণেই ঘাতকের লালসার শিকার হয়ে জীবন হারিয়েছে শিশুটি।

এ দিকে এই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ও ফাঁসির দাবিতে রাজপথে নেমেছেন শিক্ষার্থী ও নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয় যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার পল্লবী থানার ভেতরে ঢুকে বিােভ করে অপরাধীর দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানায় এলাকাবাসী। এলাকাবাসী হত্যার দ্রুত বিচারের দাবি সংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে থানায় যান।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া অভিভাবকরা স্থানীয় এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। তারা অভিযোগ করেন, এলাকায় পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা সচল না থাকায় এবং কার্যকর নিরাপত্তা জোরদার না করায় অপরাধমূলক ঘটনা বাড়ছে। সন্তানদের নিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে পুরো এলাকায় কঠোর নজরদারি ও দৃশ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

গত মঙ্গলবার সকালে মিরপুর-১১ এলাকার বি ব্লকের একটি বহুতল ভবনের তৃতীয় তলার ফ্যাট থেকে শিশু রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, শিশুটি হত্যার পর মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। যদিও ফ্যাটের ভেতর থেকেই দেহের অংশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে সিআইডিতে ফরেনসিক পরীার জন্য পাঠানো হয়েছে। হত্যার ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলো- পাশের ফ্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার (২৬)।