এনডিটিভি
পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ও সামাজিক কল্যাণ নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে রাজ্য প্রশাসন। সোমবার আয়োজিত এক মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ঘোষণা করা হয়েছে যে, রাজ্যে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে চালু থাকা সব ধরনের সরকারি আর্থিক সহায়তা ও অনুদান প্রকল্প পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেয়া হবে।
রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এই সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চলতি মাস পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর সুবিধা পাওয়া যাবে, তবে আগামী মাস থেকে এই সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মূলত তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের অধীনে ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসকে ভিত্তি করে যেসব রাষ্ট্রীয় অনুদান দেয়া হতো, সেগুলোর ওপর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। এ বিষয়ে শিগগিরই বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হবে। নতুন সরকার গঠনের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এমন একটি নীতিগত ঘোষণা আসায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনের আগে কর্মসংস্থান ও সুশাসনের যে প্রতিশ্রুতি বিজেপি দিয়েছিল, সেই প্রেক্ষাপটেই এই বড় ঘোষণাটি এলো। জানা গেছে, নির্দেশটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনেই নেয়া হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক নির্দেশনার প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়।
এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে পূর্ববর্তী সময়ে চালু হওয়া ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং পুরোহিতদের মাসিক ভাতার ভবিষ্যৎ গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল। আগে এই সরকারি সুবিধার আওতায় ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য প্রথমে ১৫০০ টাকা মাসিক ভাতা দেয়া হতো, যা পরবর্তীতে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করা হয়েছিল। তবে নতুন সরকারি পদক্ষেপে এই ধরনের কাঠামোগত আর্থিক সহায়তাব্যবস্থা চিরতরে বন্ধ হতে চলেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে দীর্ঘ দিন ধরেই এই ধরনের অনুদান প্রকল্পকে ‘পক্ষপাতমূলক নীতি’ বলে তীব্র সমালোচনা করা হচ্ছিল। সমালোচকেরা এটিকে ‘রেউরি সংস্কৃতি’ বা কেবলই রাজনৈতিক ও ভোটের স্বার্থে সরকারি তহবিল বিতরণের একটি কৌশল হিসেবে দেখতেন।



