ক্রীড়া ডেস্ক
চলমান বিশ্বকাপে নিজেদের যাত্রা শুরু করতে আগামীকাল ভোর ৪টায় হার্ড রক স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে সৌদি আরব ও উরুগুয়ে। গ্রুপ ‘এইচ’-এর এই ম্যাচকে দুই দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ স্পেনকে গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী দল ধরা হলেও দ্বিতীয় স্থান কিংবা সেরা তৃতীয় দল হিসেবে নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ এখনো পুরোপুরি উন্মুক্ত।
এই গ্রুপে রয়েছে স্পেন, উরুগুয়ে, সৌদি আরব ও অভিষিক্ত দল কেপ ভার্দে। ফলে প্রথম ম্যাচ থেকেই পয়েন্ট হারানোর সুযোগ খুব কম। বিশেষ করে সৌদি আরব ও উরুগুয়ের জন্য এই ম্যাচ ভবিষ্যৎ সমীকরণ অনেকটাই নির্ধারণ করে দিতে পারে। এশিয়ার অন্যতম পরিচিত ফুটবল শক্তি সৌদি আরব ১৯৯৪ সালের পর থেকে বিশ্বকাপে নিয়মিত মুখ। শুধু ২০১০ ও ২০১৪ সালে তারা মূল পর্বে উঠতে পারেনি। তবে বিশ্বকাপে তাদের সেরা সাফল্য এখনো ১৯৯৪ সালের শেষ ষোলোতে ওঠা।
সাম্প্রতিক দুই বিশ্বকাপেই সৌদির যাত্রা শেষ হয়েছে গ্রুপ পর্বে। তবে তারা বারবার প্রমাণ করেছে যে বড় দলকে চমকে দেওয়ার সামর্থ্য তাদের আছে। ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব ফুটবলে আলোড়ন তুলেছিল সৌদি আরব। এবারো তেমন কিছু করতে চায় তেল সমৃদ্ধ দেশটি।
কোচ জর্জিওস ডোনিসের অধীনে দলটি এবারো সংগঠিত ফুটবল খেলার চেষ্টা করছে। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে সেনেগালের সাথে গোলশূন্য ড্র করেছে তারা। এ ছাড়া পুয়ের্তো রিকোকে ১-০ ব্যবধানে হারালেও ইকুয়েডরের কাছে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত হয়। সৌদি দলের সবচেয়ে বড় ভরসা অধিনায়ক সালেম আল-দাওসারি। জাতীয় দলের হয়ে ৩৪ গোল করা এই মিডফিল্ডার বহু বছর ধরেই দলের আক্রমণের প্রাণভোমরা। তার নেতৃত্বে আক্রমণে থাকবেন ফিরাস আল-বুরাইকান, যিনি ইতোমধ্যে দেশের হয়ে ৭২ ম্যাচে ১৬ গোল করেছেন। গোলরক্ষক নাওয়াফ আল-আকিদি চোটের কারণে এই ম্যাচে নেই, তবে বাকি স্কোয়াড প্রায় পূর্ণ শক্তিতে রয়েছে। মাঝমাঠে মোহাম্মদ কান্নো ও আল-খাইবারির দায়িত্ব হবে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করা।
অন্য দিকে উরুগুয়ে এবার বিশ্বকাপে এসেছে নতুন যুগের দল নিয়ে। লুইস সুয়ারেজ ও এডিনসন কাভানির যুগ শেষের পথে হলেও দক্ষিণ আমেরিকার এই দল এখনো প্রতিভায় সমৃদ্ধ। মার্সেলো বিয়েলসার অধীনে উরুগুয়ে নিজেদের নতুন পরিচয়ে গড়ে তুলছে। আগ্রাসী প্রেসিং, দ্রুত আক্রমণ এবং উচ্চ গতির ফুটবল এখন তাদের মূল বৈশিষ্ট্য।



