সিলেট ব্যুরো
১৫ বছর ধরে বন্ধ থাকা ২০ লাখ মানুষের রুটি রুজির উৎস সিলেটের পাথর কোয়ারি খুলে দিতে সরকারের সবুজ সঙ্কেতের অপেক্ষায় এখন সিলেটের ২০ লাখ মানুষ। সিলেটের গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানিগঞ্জ, কানাইঘাটসহ সিলেট সুনামগঞ্জসহ দেশের কয়েকটি অঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষ, ব্যবসায়ীসহ পাথর কোয়ারির সাথে সংশ্লিষ্ট ২০ লক্ষাধিক মানুষ কোয়ারি বন্ধ থাকায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে কয়েক হাজার ব্যবসায়ী পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছেন।
লাখো মানুষের হাহাকার, আর্তনাদে পাথরের জলরাশি শুকিয়ে এখন মরুভূমি।
একসময়ের ‘সাদা সোনা’ বলে পরিচিত পাথর কোয়ারির কোটি কোটি টাকার জমজমাট দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না।
কাগজে কলমে ২০১৩ সাল থেকে সিলেটের পাথর কোয়ারি বন্ধ। কার্যত এর দুই-তিন বছর আগে থেকেই তৎকালীন সরকারি দলের হাতে চলে যায় কোয়ারির দখল।
তারপরের ইতিহাস কেবলই লুটপাট আর লুটতরাজের। ক্ষমতাসীন দল, প্রভাবশালী গোষ্ঠী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যোগসাজশে গত দেড় দশক পাথর কোয়ারিতে চলছে বেপরোয়া লুটপাট। এমপি থেকে মন্ত্রী হওয়া আওয়ামী লীগের নেতার নেতৃত্বে বেপরোয়া লুটপাট চলে জাফলং, বিছনাকান্দি, সাদা পাথর, শাহ আরেফিন টিলা, ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর সংলগ্ন সংরক্ষিত এলাকা রেলওয়ের রজ্জুপথের হাজার হাজার কোটি টাকার পাথর ।
সাদা পাথর কোয়ারি এখন ধু-ধু বালুচর।
জাফলং, বিছনাকান্দি পাথর শূন্য।
তবুও জীবন জীবিকার অন্বেষণে এসব কোয়ারিকেই রুটি রুজির উৎস বলে মনে করেন লাখো বারকি শ্রমিক ও কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগকারী ছোট বড় ব্যবসায়ীরা।
দেড় দশকে এই শ্রমিকদের নিয়ে বন্ধ আর খোলা নিয়ে কত নাটক সাজানো হয়েছে।
অবশেষে দীর্ঘ ১৫ বছর পর সিলেটের পাথর কোয়ারিতে পাথর উত্তোলনের সিদ্ধান্ত আসতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
পাথর কোয়ারি খোলা নিয়ে করণীয় নির্ধারণ করতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানী ঢাকার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠকে বসছেন। পাথর কোয়ারি খোলার উদ্যোগ নেয়ায় আশার আলো দেখছেন পাথর কোয়ারি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।



