সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক
আজ পঁচিশে বৈশাখ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলে দেশজুড়ে নানা আয়োজন করা হয়েছে। বাঙালির সংস্কৃতি, সাহিত্য ও সঙ্গীতে রবীন্দ্রনাথের অবদান স্মরণ করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কবিগুরুর সাহিত্য ও সঙ্গীত আজও মানুষের হৃদয়ে প্রেরণা জোগায় এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করে চলেছে।
প্রতি বছর বাংলা ২৫ বৈশাখে কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়। এ উপলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশনা, কবিতা আবৃত্তি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন শিাপ্রতিষ্ঠানে শিার্থীরা কবিগুরুর জীবন ও কর্ম নিয়ে বিশেষ প্রবন্ধ পাঠ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেবে।
রবীন্দ্রনাথ শুধু একজন কবি নন, তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সুরকার, নাট্যকার ও দার্শনিক। তার রচিত গান, কবিতা ও গল্প বাঙালির আবেগ, চেতনা ও দেশপ্রেমকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা সাহিত্যে তার অবদান বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তার রচিত ‘জন গণ মন’ ভারতের জাতীয় সঙ্গীত এবং ‘আমার সোনার বাংলা’ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃত।
পঁচিশে বৈশাখ উপলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। তরুণ প্রজন্ম রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গান ও উক্তি শেয়ার করে তাকে স্মরণ করছে। অনেক সাংস্কৃতিক সংগঠন অনলাইন অনুষ্ঠান ও লাইভ কনসার্টেরও আয়োজন করেছে।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মতে, বর্তমান সময়ের সামাজিক অস্থিরতা ও মূল্যবোধের সঙ্কট মোকাবেলায় রবীন্দ্রচর্চা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তার সাহিত্য মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও সৌন্দর্যবোধের শিা দেয়। তাই নতুন প্রজন্মের মধ্যে রবীন্দ্রসাহিত্য পাঠের আগ্রহ বাড়ানো প্রয়োজন।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে তিনি বিশ্বকবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক পোস্টে লিখেছেন, বাংলা সাহিত্যের মহোত্তম কণ্ঠস্বর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলে তার অমর অম্লান স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। তার বিদেহী আত্মার জন্য কামনা করি অনন্ত শান্তি।
তিনি আরো লিখেছেন, বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণই ছিল তার অবিনাশী সৃজনশীলতার মূল অন্বেষা। কাব্য, সঙ্গীত, ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, নৃত্যনাট্য, চিত্রকলার পরতে পরতে এই মানুষ, মানবতা, শান্তি, প্রেম ও প্রকৃতির জয়গান গেয়েছেন অনন্যসাধারণ শৈল্পিক কুশলতায়, যা আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও চিন্তার জগতের অমূল্য সম্পদ। তার সারা জীবনের যুক্তিবোধ ও মঙ্গলভাবনা থেকেই তিনি আন্তর্জাতিকতার মর্মকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে অকুণ্ঠ থেকেছেন সবসময়। জাতীয় জীবনে বিশ্বকবির অবদান অনস্বীকার্য।



