নয়া দিগন্ত ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে আপাত যুদ্ধবিরতির আবহ তৈরি হলেও বাস্তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সঙ্কট আরো গভীর অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে। এক দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সাথে সমঝোতায় পৌঁছাতে তিনি ‘কোনো তাড়াহুড়োয় নেই’; অন্য দিকে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, নতুন করে হামলা শুরু হলে যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে আরো বিস্তৃত হবে।
ওয়াশিংটনের সামরিক ঘাঁটি জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এ বিষয়টিকে একটি সুযোগ দিতে চাই। আমি কোনো তাড়াহুড়োয় নেই।’ একই সাথে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘মূলত ইরানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।’ যদিও তার এ বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প ইরানকে ‘দুই থেকে তিন দিনের’ সময় বেঁধে দিয়েছিলেন সম্ভাব্য একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও জানিয়েছেন, আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে। তবে কূটনৈতিক আশাবাদের আড়ালে দু’পক্ষের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস এখনো স্পষ্ট।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, যুদ্ধবিরতির সময়কে দেশটির সশস্ত্রবাহিনী নিজেদের শক্তি পুনর্গঠনের জন্য কাজে লাগিয়েছে। তার ভাষায়, ‘শত্রুর প্রকাশ্য ও গোপন তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, তারা নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আবার হামলা হলে শত্রুকে অনুতপ্ত হতে হবে।’
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ মহল থেকেও একই ধরনের কঠোর বার্তা এসেছে। মোজতবা খামেনি বলেছেন, ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘ঐতিহাসিক প্রতিরোধ’ গড়ে তুলছে। তেহরানের রাজনৈতিক বক্তব্যে এখন ‘সার্বভৌমত্ব রক্ষা’ এবং ‘দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ’ সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সঙ্কট কেবল সামরিক সঙ্ঘাত নয়; এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির জন্যও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিশ্ববাজারকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
জাতিসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা সৃষ্টি হলে তা বৈশ্বিক খাদ্য সঙ্কট ডেকে আনতে পারে। সংস্থাটির ভাষায়, সঙ্কটটি ধাপে ধাপে ‘জ্বালানি, সার, বীজ, উৎপাদন হ্রাস, পণ্যমূল্য বৃদ্ধি এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি’- সব ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলবে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। বর্তমানে ইরানের কার্যত নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কিন অবরোধ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। যদিও ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২৬টি জাহাজ সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রণালী অতিক্রম করেছে।
এ দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতও পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে বিকল্প জ্বালানি রুট তৈরিতে জোর দিচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান অ্যাডনোক জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে নতুন পাইপলাইন নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার পর আবুধাবি এই প্রকল্পকে কৌশলগত অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘বর্ধিত বৈশ্বিক অস্থিরতা’র কারণ দেখিয়ে সুদের হার বাড়িয়েছে। দেশটির সরকার অপরিশোধিত পাম অয়েল, কয়লা ও ধাতব পণ্যের রফতানিতেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।
অন্য দিকে স্বর্ণের বাজারেও অস্থিরতা দেখা গেছে। সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় দাম কিছুটা স্থিতিশীল হলেও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ এখনো কাটেনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।
তবে কেবল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্বই নয়, গাজা ও লেবানন ঘিরেও নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গাজাগামী আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী ফ্লোটিলার কর্মীদের আটক ও নির্যাতনের অভিযোগে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে ইউরোপে।
ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে আন্তর্জাতিক কর্মীদের হাত বেঁধে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখা দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর ইতালি ও ফ্রান্স তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এই দৃশ্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছেন। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো জানিয়েছেন, এ ঘটনায় ব্যাখ্যা চাইতে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হবে। জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার দফতরও আটক কর্মীদের প্রতি ‘গুরুতর দুর্ব্যবহার’ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
এ দিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, মার্চ থেকে ইসরাইলি হামলায় দেশটিতে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গাজায় নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৭২ হাজার ছাড়িয়েছে বলে দাবি করেছে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
এই জটিল পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও চীনের ভূমিকাও আন্তর্জাতিক আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। মস্কো জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় সহায়তা করতে প্রস্তুত। রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন, ‘রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানই একমাত্র পথ।’
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সঙ্ঘাতে রাশিয়া ও চীন তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। কারণ তারা সরাসরি যুদ্ধে জড়াচ্ছে না, আবার অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমে গেলে সেই শূন্যতা অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে কাজে লাগাতে পারবে।
আলজাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক জেইদন আলকিনানি বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে একই সাথে তিনি মনে করেন, এই সঙ্কট যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও বড় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে।
ফের হামলা হলে অঞ্চলের বাইরেও যুদ্ধ ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি ইরানের
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির আবহ বজায় থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতি ক্রমেই আরো বিস্ফোরক হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল নতুন করে হামলা চালালে সঙ্ঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না- এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তেহরানের ভাষ্য, এত দিন তারা নিজেদের ‘পূর্ণ সামরিক সক্ষমতা’ ব্যবহার করেনি; কিন্তু আবার আগ্রাসন হলে প্রতিক্রিয়া হবে আরো বিস্তৃত ও বিধ্বংসী।
বার্তা সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ‘জায়নিস্ট শাসন’ ইরানের বিরুদ্ধে বারবার কৌশলগত পরাজয়ের পরও শিক্ষা নেয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দুই সামরিক শক্তি একযোগে হামলা চালালেও ইরান এখন পর্যন্ত ইসলামী বিপ্লবের সব সামর্থ্য প্রয়োগ করেনি। তবে আবার আগ্রাসন শুরু হলে ‘প্রতিশ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধ’ এবার অঞ্চল ছাড়িয়ে আরো দূরবর্তী এলাকায় বিস্তৃত হবে।
আইআরজিসির ভাষা ছিল অত্যন্ত কঠোর ও সরাসরি। তারা বলেছে, আমরা যুদ্ধের মানুষ। যুদ্ধক্ষেত্রে তোমরা আমাদের শক্তি দেখবে। এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফাঁকা হুমকি নয়। এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তেহরান স্পষ্টভাবে বোঝাতে চেয়েছে, ভবিষ্যৎ সঙ্ঘাত হলে শুধু উপসাগরীয় অঞ্চল নয়, এর প্রভাব বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি সম্প্রতি জানিয়েছেন, নতুন কোনো সমঝোতা না হলে আবারো ইরানে হামলার প্রয়োজন হতে পারে। এমনকি তিনি দাবি করেন, বিমান হামলার নির্দেশ দেয়ার ‘মাত্র এক ঘণ্টা দূরে’ পৌঁছে গিয়েছিলেন, কিন্তু কূটনীতিকে আরেকটি সুযোগ দিতে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে এখন বিভ্রান্তি বাড়ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। কখনো ওয়াশিংটন শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির কথা বলছে, আবার কখনো সরাসরি সামরিক হামলার হুমকি দিচ্ছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, আলোচনা ‘সুবিধাজনক অবস্থানে’ রয়েছে। অথচ একই সময়ে ট্রাম্প আবার যুদ্ধের সম্ভাবনার কথাও সামনে আনছেন।
এই দ্বৈত অবস্থানের বড় প্রভাব পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতিদিন ওঠানামা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা এখন মূলত পর্যবেক্ষণ করছেন- ওয়াশিংটন ও তেহরান আদৌ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে কি না।
বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সাময়িকভাবে কিছুটা কমলেও সামগ্রিক প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখী। জাপানি বিশ্লেষক তোশিতাকা তাজাওয়া বলেছেন, দু’পক্ষের বক্তব্য প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি মূল্যায়নে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন।
বর্তমান সঙ্কটের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের টানাপড়েন চলছে। চলতি সপ্তাহে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে, সেখানে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ অর্থ ছাড় এবং অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মতো শর্ত রাখা হয়েছে।
ওয়াশিংটন এর আগে এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছিল। ফলে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে চায় না। কারণ আগামী নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির উচ্চমূল্য রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে।
ইরানও বুঝতে পারছে, দীর্ঘ সঙ্ঘাত তাদের অর্থনীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবুও তেহরানের অবস্থান এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। কারণ যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস, আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক ভেঙে দেয়া এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ তৈরি করা। কিন্তু বাস্তবে ইরান এখনো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ ধরে রেখেছে এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও অক্ষত রেখেছে।
একই সাথে ইরান-সমর্থিত আঞ্চলিক নেটওয়ার্কও পুরোপুরি দুর্বল হয়নি। লেবানন, ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনে তেহরানঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলো এখনও সক্রিয়। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে নতুন করে ড্রোন হামলার ঘটনায় উত্তেজনা আরো বেড়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর দাবি, এসব হামলা ইরাকভিত্তিক ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো চালিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতার মধ্যেই নতুন কূটনৈতিক তৎপরতায় নেমেছে পাকিস্তান। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি আবারো তেহরান সফর করেছেন। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের মতে, এই সফরের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করা।
গত মাসে অনুষ্ঠিত একমাত্র শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিল পাকিস্তান। এর পর থেকেই ইসলামাবাদের মাধ্যমে দু’পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে। তেহরানে অবস্থানকালে নাকভি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সাথে বৈঠক করেছেন।
এ দিকে যুদ্ধকে ঘিরে আরেকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের দাবি, যুদ্ধ শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে সামনে রেখে একটি রাজনৈতিক পরিকল্পনা করেছিল। ধারণা করা হয়েছিল, তেহরানের ক্ষমতায় ‘ভেতরের কেউ’ এলে সেটি পশ্চিমাদের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এখন যুদ্ধবিরতির চেয়ে অনিশ্চয়তাই বেশি স্পষ্ট। কূটনৈতিক আলোচনা চলছে, কিন্তু একই সাথে সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টাপাল্টি হুমকিও বাড়ছে। ফলে বিশ্ব রাজনীতি এখন এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে ছোট একটি সিদ্ধান্তও বড় আঞ্চলিক সঙ্ঘাতকে বৈশ্বিক সঙ্কটে রূপ দিতে পারে।



