পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র আট দিন বাকি থাকলেও এখনো কোরবানির পশুহাটের ইজারা সম্পন্ন করতে পারেনি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। ২৭টি অস্থায়ী হাটের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৯টি হাটের ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। বাকি আটটি হাটের পুনঃদরপত্র আহবান ও বিভাগীয় কমিশনারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সংস্থা দু’টি।
আগামী ২৮ মে দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হবে। রাজধানীতে দু’টি স্থায়ী পশুহাট রয়েছে। ঢাকা উত্তরে ‘গাবতলী পশুর হাট’ ও ঢাকা দক্ষিণে ‘সারুলিয়া স্থায়ী পশুর হাটে’ সারা বছর পশু কেনাবেচা হয়। এর পাশাপাশি প্রতি বছরের মতো এবার ঢাকার দু’টি সিটিতে রেকর্ডসংখ্যক ২৭টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। ঈদের দিনসহ মোট পাঁচ দিন কোরবানির পশু বেচাকেনা হবে এসব হাটে।
ডিএসসিসির পশুর হাট : গত ১৬ এপ্রিল ১১টি হাট ইজারার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয় ডিএসসিসি। এরপর ১৪ মে পর্যন্ত ৯টি হাটের ইজারায় সর্বোচ্চ দরদাতা মিলেছে। ইজারা পাওয়ার পর এরই মধ্যে হাট বসানোর প্রাথমিক কাজ শেষ করেছেন তারা। ঈদুল আজহায় রাজধানীবাসীর পশু কেনাকাটা সহজ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় পশু নিয়ে আসেন খামারিরা। তাদের পশু কিনেই কোরবানি সম্পন্ন করেন ঢাকাবাসী।
ডিএসসিসির হাটগুলোর মধ্যে চার কোটি এক লাখ টাকায় পোস্তগোলা শশ্মানঘাটের পশ্চিম পাশের বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ের খালি জায়গায় হাটের ইজারা পেয়েছেন কাজী মাহবুব মাওলা হিমেল। হাট ইজারার বিষয়ে কাজী মাহবুব মাওলা হিমেল বলেন, এরই মধ্যে হাটে পশু নিয়ে আসতে শুরু করেছেন খামারিরা। বিশেষ করে হাটে কুষ্টিয়া, ফরিদপুরের খামারি বেশি। তবে হাটে এখনো বেচাকেনা শুরু হয়নি।
তিন কোটি ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকায় উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাবের খালি জায়গায় আনিসুর রহমান টিপু, দুই কোটি ১৫ লাখ টাকায় আমুলিয়া মডেল টাউনের খালি জায়গায় মো: জয়নাল আবেদীন রতন, চার কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার টাকায় শিকদার মেডিক্যাল সংলগ্ন আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের খালি জায়গায় মেসার্স সাফি এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর নাফিজ কবির, চার কোটি ৩৫ লাখ টাকায় কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ী পানির পাম্প পর্যন্ত রাস্তায় অব্যবহৃত খালি জায়গায় কে বি ট্রেডের প্রোপ্রাইটর মো: শামীম খান ইজারা পেয়েছেন। ৭০ লাখ ২০ হাজার টাকায় মোস্তমাঝি মোড় সংলগ্ন গ্রিন বনশ্রী হাউজিংয়ের খালি জায়গায় মো: গোলাম হোসেন, তিন কোটি এক লাখ টাকায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে খালি জায়গায় মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, এক কোটি ৯ লাখ টাকায় গোলাপবাগের আউটফল স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর পাশে খালি জায়গায় বারাকা এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর আমির হোসেন, ৭৫ লাখ ১৮ হাজার টাকায় রহমতগঞ্জ ক্লাবের খালি জায়গায় রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির সভাপতি টিপু সুলতান কোরবানির পশুহাটের ইজারা পেয়েছেন। বাকি দুই হাটের তিন দফা টেন্ডার আহবান করেও কাক্সিক্ষত দর পাওয়া যায়নি। এগুলো হলো- সাদেক হোসেন খোকা খেলার মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা ও শ্যামপুর কদমতলী ট্রাকস্ট্যান্ডের খালি জায়গায়। এ দু’টি হাটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে ফাইল পাঠিয়েছে ডিএসসিসি।
ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান বলেন, এখন পর্যন্ত নয়টি হাটের ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। বাকি দু’টি হাটে কাক্সিক্ষত দর পাওয়া যায়নি। তাই বিধি অনুযায়ী এ দু’টি হাটের বিষয়ে কী করণীয় তা জানতে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে।
ডিএনসিসির পশুর হাট : গত ৯ এপ্রিল ১২টি ও ২৮ এপ্রিল চারটি হাটের নাম উল্লেখ করে পৃথক দরপত্র আহ্বান করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। পরে এক কোটি ৭৯ লাখ টাকায় মিরপুর সেকশন-৬ এর ইস্টার্ন হাউজিং সংলগ্ন খালি জায়গা ইজারা পান মেসার্স ইসলাম এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর মো: সিরাজুল ইসলাম। ৩০ লাখ ১১ হাজার টাকায় মিরপুর কালশী বালুর মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গায় রেদোয়ান রহমান, তিন কোটি ৮৭ লাখ টাকায় ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন খালি জায়গায় শিকদার এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর মো: আমিনুল ইসলাম, ১২ লাখ ৫৩ হাজার টাকায় ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হাজীপাড়ার ইকরা মাদরাসার পাশের খালি জায়গায় এম আসলাম, ১৪ কোটি ১৫ লাখ টাকায় উত্তরা দিয়াবাড়ির ১থ৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টর সংলগ্ন বউ বাজার এলাকায় এস এফ করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো: শেখ ফরিদ হোসেন ইজারা পেয়েছেন। এ ছাড়া, ২৭ লাখ টাকায় ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁচপকুড়া বাজার সংলগ্ন রহমান নগর আবাসিক এলাকায় রফিকুল ইসলাম সরকার, তিন কোটি সাত লাখ টাকায় খিলক্ষেতের মস্তুল চেকপোস্ট সংলগ্ন পশ্চিম পাড়ার খালি জায়গায় বিল্লাল হোসেন, এক কোটি ৮০ লাখ ১০ হাজার টাকায় বনরূপা আবাসিক প্রকল্প এলাকায় আরিফিন অ্যান্ড আরা এন্টারপ্রাইজের মালিক মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, দুই কোটি ৩৩ লাখ টাকায় বাড্ডার স্বদেশ প্রপার্টিজের খালি জায়গায় মুহাম্মদ তুহিনুর ইসলাম, পাঁচ কোটি ৭০ লাখ টাকায় বড় বেরাইদে বসুন্ধরা গ্রুপের খালি জায়গায় এ এম এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর মো: আতাউর রহমান হাট ইজারা পেয়েছেন।
এর মধ্যে খিলক্ষেত বাজার সংলগ্ন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের জায়গা (এক কোটি ৫১ লাখ টাকা), ২১ নম্বর ওয়ার্ডের মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজার সংলগ্ন খালি জায়গা (১৪ লাখ টাকা), মোহাম্মদপুরের বছিলার ৪০ ফুট রাস্তা সংলগ্ন খালি জায়গা (এক কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার ৪৫৬ টাকা), ভাটারার সুতিভোলা খাল সংলগ্ন খালি জায়াগা (তিন কোটি ১২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা), ভাটুলিয়া সাহেব আলী মাদরাসা থেকে ১০ নম্বর সেক্টর রানারভোলা অ্যাভিনিউ সংলগ্ন উত্তরা স্লুইসগেট পর্যন্ত (৮৮ লাখ ২০ হাজার ৭৫০ টাকা টাকা), মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠের জায়গায় (৫০ লাখ টাকা) হাট ইজারায় কাক্সিক্ষত দর ও দরপত্র পাওয়া যায়নি। এসব হাটে পুনঃদরপত্র চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন বলেন, যে ১০টি হাটে সর্বোচ্চ দরদাতা পাওয়া গেছে, তাদের হাটের জায়গা বুঝিয়ে দিতে আজ এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ডিএনসিসি। বাকি ছয়টি হাটে পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তিনি জানান, কাক্সিক্ষত দর পেলে হাটগুলো ইজারা দেবে ডিএনসিসির সম্পত্তি বিভাগ।



