পাচারের আশঙ্কা

মুক্তাগাছায় দেড় মাসে ২২ শিশু-কিশোরী নিখোঁজ

Printed Edition

ময়মনসিংহ অফিস

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় দেড় মাসে ২২ জন শিশু-কিশোর-কিশোরী নিখোঁজ হয়েছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, এর সাথে পাচারকারী চক্র জড়িত থাকতে পারে। আর পুলিশ বলছে, প্রতিটি ঘটনা গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, গত মার্চ মাস থেকে নিখোঁজের ঘটনা বাড়তে শুরু করে। এ পর্যন্ত ২২টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন ছেলে এবং ১৯ জন মেয়ে। এদের মধ্যে ছয়জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। মার্চ মাসে আটটি জিডির বিপরীতে চারজন এবং এপ্রিলে ১৪টি জিডির বিপরীতে দু’জনকে উদ্ধার করা হয়।

নিখোঁজদের মধ্যে তিন বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে। এ ছাড়া ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সী ১০ জন, ১৬ থেকে ২০ বছর বয়সী সাতজন এবং ২০ বছরের ঊর্ধ্বে চারজন রয়েছেন।

এ দিকে, থানায় জিডি না করা আরো কয়েকটি নিখোঁজের ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। তাই নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত ৭ এপ্রিল নিখোঁজ হওয়া ১৫ বছরের এক কিশোরীকে পরে ঢাকা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের দাবি, একটি চক্র তাকে ঢাকায় নিয়ে ভারতে পাচারের চেষ্টা করছিল। উদ্ধার হওয়া কিশোরী জানায়, তাকে কৌশলে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মুক্তাগাছা পৌর এলাকার ব্যবসায়ী আল-আমিন বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে এত শিশু-কিশোর নিখোঁজ হওয়া স্বাভাবিক নয়। তিনি বাজার, মেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান।

জেলা প্রশাসক মো: সাইফুর রহমান বলেন, বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

নিখোঁজদের মধ্যে তিন বছরের এক শিশু গত ১৮ এপ্রিল টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি মেলা থেকে হারিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা জানায়, মেলার ভিড়ে শিশুটি নিখোঁজ হয়। পরদিন মুক্তাগাছা ও মধুপুর থানায় জিডি করা হয়। এ ছাড়া, কুতুবপুর গ্রাম থেকে আট বছর বয়সী এক শিশু ১৬ এপ্রিল বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয়। একইভাবে ২৬ এপ্রিল মাদরাসায় যাওয়ার পথে দড়িকাটবাওলা গ্রামের দুই কিশোর নিখোঁজ হয়। ২৪ এপ্রিল বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর ৯ বছর বয়সী আরেক শিশুরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েকটি ক্ষেত্রে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও জিডি করা হয়নি বলে জানা গেছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর আবু আহমেদ ফয়জুল কবির বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় এত সংখ্যক শিশুর নিখোঁজ হওয়া উদ্বেগজনক। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং সম্ভাব্য সংগঠিত অপরাধের ইঙ্গিত হতে পারে।

মুক্তাগাছা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জুলুস খান পাঠান বলেন, নিখোঁজের প্রতিটি ঘটনা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। সম্ভাব্য সব জায়গায় অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কিশোরীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় প্রেমঘটিত কারণে স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে শিশু নিখোঁজের বিষয়গুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।